বিহারে যা হয়নি, বাংলায় তা-ই করে দেখালো কমিশন! সোনাগাছিতে ‘বিচারাধীন’ ভোটার কত?

ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধন নিয়ে এক সময় ঘোর অনিশ্চয়তায় ছিলেন কলকাতার সোনাগাছির যৌনকর্মীরা। ফর্ম পূরণের সময় ‘আত্মীয়ের নাম’-এর কলামে কী লিখবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল আইনি ও সামাজিক জটিলতা। তবে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ হস্তক্ষেপে সেই মেঘ কাটতে শুরু করেছে।

কমিশনের বিশেষ শিবির ও বর্তমান চিত্র এশিয়াক বৃহত্তম যৌনপল্লির বাসিন্দাদের সমস্যা মেটাতে রামবাগান, কদমতলা ক্লাব এবং শীতলা মন্দিরে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করেছিল কমিশন। খোদ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সেখানে উপস্থিত থেকে সমস্যা খতিয়ে দেখেন।

দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতির সম্পাদক বিশাখা লস্কর জানিয়েছেন, শেঠবাগান ও দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিট মিলিয়ে বর্তমানে মাত্র ১২ জনের নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে। এছাড়া তথ্যগত ভুলের কারণে নাম বাদ পড়েছে (ডিলিটেড) মাত্র ৩ জনের। অর্থাৎ, সিংহভাগ যৌনকর্মীর নামই এখন ভোটার তালিকায় সুরক্ষিত।

পরিসংখ্যান কী বলছে? কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আয়োজিত তিনটি শিবিরে মোট ৮০৩ জন অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে:

  • নতুন নাম তোলার জন্য (ফর্ম-৬) আবেদন করেছেন ২১০ জন

  • ভোটার কার্ড সংশোধনের জন্য (ফর্ম-৮) জমা পড়েছে ৫১টি আবেদন।

  • এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন ১২ জন।

কেন এই উদ্যোগ অনন্য? সোনাগাছিতে প্রায় ১০ হাজার যৌনকর্মী রয়েছেন, যার মধ্যে ৭ হাজার জন সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ‘আমরা পদাতিক’-সহ একাধিক সংগঠনের চিঠির ভিত্তিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। মজার বিষয় হলো, বিহারের মতো রাজ্যেও যৌনপল্লি থাকলেও সেখানে এমন কোনো মানবিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের নজির নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।

পরিচয়পত্রের লড়াইয়ে সোনাগাছির এই জয় কেবল ভোট দেওয়ার অধিকার নয়, বরং নাগরিক হিসেবে তাঁদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়েও এক বড় পদক্ষেপ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy