বিক্ষোভের মুখে মহুয়া মৈত্র! গাড়ি ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান, কালো পতাকা দেখিয়ে পথ অবরোধ উত্তাল চাপড়ায়

দলে থেকে দলের বিরুদ্ধাচরণ ও বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানো বরদাস্ত করা হবে না— গতকালই এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আর সেই হুঁশিয়ারি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই চরম বিক্ষোভের মুখে পড়লেন খোদ মহুয়া। মঙ্গলবার নদিয়ার চাপড়ায় একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে তীব্র উত্তেজনার মুখোমুখি হলেন তিনি।
গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও তুলকালাম পরিস্থিতি:
এদিন চাপড়ার একটি কর্মিসভা শেষে বেরোনোর সময় মহুয়া মৈত্রের কনভয় আটকে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁর গাড়ির সামনে কালো পতাকা হাতে রাস্তায় শুয়ে পড়ে পথ অবরোধের চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। সেই সঙ্গে ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে সাংসদের গাড়িতে কিল-ঘুষি মারা হয় এবং ধাক্কাধাক্কি করা হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চাপড়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমান পলাশীপাড়ার বিধায়ক রুকবানুর রহমানের উপস্থিতিতে এই সভা ঘিরে আগে থেকেই চাপা উত্তেজনা ছিল।
কার দিকে আঙুল তুললেন মহুয়া?
বিক্ষোভের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মহুয়া মৈত্র। তাঁকে কালো পতাকা দেখানো ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের নেপথ্যে দলেরই বিক্ষুব্ধ অংশ ও স্থানীয় নেতার হাত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মহুয়ার স্পষ্ট বক্তব্য, চাপড়ায় কোনো রাজনৈতিক বিরোধী শক্তি বা বিজেপি নেই, বরং দলের সঙ্গে গদ্দারি করে যারা অন্য শিবিরে ভিড়েছে, তারাই এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দলের নির্দেশ অমান্য করে বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে অনাস্থা আনা এবং বিরোধীদের হাত ধরার অভিযোগে একাধিক নেতাকে সরাসরি সাসপেন্ড করেছেন মহুয়া। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা সভাপতি হিসেবে তাঁর এই কঠোর অবস্থানের পরেই চাপড়ার এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক তরজাকে উসকে দিয়েছে।