মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের! ‘বড়ঞা আসন তৃণমূল হেরে যেতে পারে’, কীভাবে হারানো সম্ভব? কৌশল ফাঁস!

লোকসভা নির্বাচনের পর এবার বিধানসভা উপনির্বাচন বা ২০২৬-এর নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রাজ্যের রাজনীতিতে আক্রমণাত্মক বিজেপি। সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সরাসরি দাবি করলেন যে, মুর্শিদাবাদের বড়ঞা বিধানসভা আসনটি তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হতে পারে। শুধু দাবি করেই ক্ষান্ত হননি, তৃণমূলকে হারানোর গোপন কৌশলও মঞ্চ থেকেই বলে দিলেন তিনি।
🎯 অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কৌশল
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্যের মূল সুর ছিল হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ ভোটদানের উপর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে কী করতে হবে:
“বড়ঞা আসন তৃণমূল হেরে যেতে পারে। কীভাবে তৃণমূলকে হারানো সম্ভব?… হিন্দু-মুসলিমদের একসাথে চলার বার্তা দিলেন সাংসদ। যদি হিন্দু-মুসলিমরা একসাথে চলে, তাহলেই তৃণমূলকে হারানো সম্ভব।”
সাংসদের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন তিনি তৃণমূলের হার নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, তেমনই অন্যদিকে দুই সম্প্রদায়ের ঐক্যের কথা বলে ভোটের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিলেন।
❓ রাজনীতির প্রেক্ষাপট
মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায়, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণত মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের উপর নির্ভর করে, সেখানে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই ‘একসাথে চলার’ বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য মূলত এই ধারণা দেয় যে, যদি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরে এবং উভয় সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূলের বিপক্ষে ভোট দেয়, তবেই এই আসনটি বিজেপির দখলে আসা সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দুই সম্প্রদায়কে একসাথে চলার আহ্বান জানানোর আড়ালে এটি আসলে ভোটের মেরুকরণকে অতিক্রম করে ঐক্যের মাধ্যমে পরিবর্তনের বার্তা। তৃণমূল অবশ্য এই মন্তব্যকে বিজেপির চিরাচরিত বিভাজনের রাজনীতি বলেই মনে করতে পারে।