বিস্ফোরণের ২ মাস আগেই ‘ডাইর নিড অফ মানি’! হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে ফাঁস অভিযুক্ত ডাক্তার আদিল রাঠারের ‘ট্রেজারার’ যোগ

দিল্লির লালকেল্লার (Red Fort) কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঠিক দু-মাস আগে থেকেই অভিযুক্ত চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাঠার টাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র হাতে আসা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তিনি বারবার অগ্রিম বেতন চেয়ে হাসপাতালের এক ঊর্ধ্বতন কর্তাকে অনুরোধ করেছেন।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, সে সময় আদিল যে অর্থের জন্য এত তাড়া দিচ্ছিলেন, তারই একটি অংশ বিস্ফোরণের তহবিলে ব্যবহার করা হয়েছে।
‘ট্রেজারার’ আদিল:
অর্থের দাবি: কাশ্মীরের অনন্তনাগ মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট আদিল বর্তমানে সাহারানপুরের একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁর একের পর এক বার্তা—‘ডাইর নিড অফ মানি’ (টাকার ভয়ানক প্রয়োজন), ‘প্লিজ ক্রেডিট মাই স্যালারি’ (দয়া করে আমার বেতন পাঠিয়ে দিন) তদন্তে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
৮ লক্ষ টাকার জোগান: এনআইএ সূত্রের দাবি, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত মোট ২৬ লক্ষ টাকার মধ্যে ৮ লক্ষ টাকা জোগান দিয়েছিলেন আদিল নিজেই।
দলের ‘কোষাধ্যক্ষ’: জেরায় অপর অভিযুক্ত ডা মুজাম্মিল শাকিল জানিয়েছেন, দলটির ভিতরে আদিলকে ডাকা হত ‘ট্রেজারার’ নামে। তদন্তকারীরা অনুমান করছেন, বিস্ফোরণের সরঞ্জাম কেনার জন্যই টাকার দাবি করেছিলেন তিনি।
হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক:
দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় এনআইএ এখন পর্যন্ত চার মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে— ডা মুজাম্মিল শাকিল গণাই, ডা আদিল আহমেদ রাঠার, ডা শাহিন সাইদ এবং মুফতি ইরফান ওয়াগায়। তদন্তকারীরা এই শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে গড়ে ওঠা মডিউলটিকে ‘হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
লালকেল্লার কাছে ব্যস্ত রাস্তায় হুন্ডাই আই-২০ গাড়িতে বিস্ফোরক ভরে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল, যেখানে ১৫ জন প্রাণ হারান। আদিলের তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর পুরোনো লকার থেকে AK–56 রাইফেল এবং গুলি উদ্ধার হয়। এছাড়া ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল।
এই ঘটনার জেরে আদিলসহ চার চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন। বর্তমানে এনআইএ হেফাজতেই থাকা আদিলসহ এই চক্রের প্রত্যেক সদস্যকে চিহ্নিত করাই তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।