এয়ারটেল রিচার্জে বিশাল ধাক্কা! বিনা ঘোষণায় বন্ধ জনপ্রিয় ৪টি প্ল্যান, পকেট থেকে কত বেশি কাটবে?

আপনি যদি এয়ারটেলের একজন নিয়মিত গ্রাহক হন এবং প্রতিবার ২৯৯ টাকার প্ল্যানে রিচার্জ করে থাকেন, তবে আপনার মাসিক খরচ এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে চলেছে। ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টেলিকম অপারেটর ভারতী এয়ারটেল কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাদের ৪টি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রিপেড রিচার্জ প্ল্যান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। গ্রাহকদের জন্য রিচার্জের প্রাইস ল্যাডার বা মূল্য কাঠামো আরও সহজ ও সুবিন্যস্ত করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গত ১২ই অগাস্ট, ২০২৬ থেকে এয়ারটেলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং জনপ্রিয় Airtel Thanks অ্যাপ থেকে এই ৪টি প্ল্যান স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া প্ল্যানগুলির মধ্যে রয়েছে— ২৯৯ টাকার প্ল্যান (২৮ দিন ভ্যালিডিটি, প্রতিদিন ১-১.৫ জিবি ডেটা), ৫৭৯ টাকার প্ল্যান (৫৬ দিন ভ্যালিডিটি, প্রতিদিন ১.৫ জিবি ডেটা), ৬১৯ টাকার প্ল্যানের পাশাপাশি ৬৪৯ টাকার প্ল্যান (৫৬ দিন ভ্যালিডিটি, প্রতিদিন ২ জিবি ডেটা)। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এয়ারটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহকই মূলত ২৯৯ টাকার প্ল্যানে রিচার্জ করতেন, তবে ডেটা শেষ হয়ে গেলে তাঁদের প্রায়শই বাড়তি টপ-আপ করাতে হতো।
কোম্পানি যদিও সরাসরি কোনো মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা করেনি, তবে সস্তার জনপ্রিয় প্ল্যানগুলি তুলে দিয়ে গ্রাহকদের বাধ্য করছে অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল প্ল্যানে সুইচ করার জন্য। এর ফলে আর্থিক বোঝা একলাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, পূর্বে ২৯৯ টাকার যে প্ল্যানটি নেওয়া যেত, তার পরিবর্তে এখন ন্যূনতম ৩৪৯ টাকা খরচ করতে হবে, যা প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ৫৭৯ টাকার প্ল্যানের পরিবর্তে সরাসরি ৮৩৮ টাকার প্ল্যান নিতে হচ্ছে, যেখানে অতিরিক্ত খরচ প্রায় ২৫৯ টাকা বা প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কোম্পানি তাদের এন্ট্রি লেভেলের ১৯৯ টাকা ও ২১৯ টাকার প্ল্যানগুলি বহাল রাখলেও, সেগুলিতে কোনো আনলিমিটেড ডেটার সুবিধা নেই। ফলে যাঁদের প্রতিদিনের ডেটা এবং আনলিমিটেড কলিংয়ের প্রয়োজন, তাঁদের এখন বাধ্য হয়েই ৩৪৯ টাকা বা তার বেশি দামের প্ল্যান বেছে নিতে হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেলের এই কৌশলটি আসলে ঘুরপথে ট্যারিফ হাইকেরই প্রথম ধাপ। এয়ারটেলের শীর্ষ আধিকারিকরা ইতিপূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, অত্যন্ত কম দামে আনলিমিটেড ডেটা বা পরিষেবা প্রদান করা কোনো দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ ব্যবসার লক্ষণ নয়। এই পদক্ষেপে কোম্পানির প্রতি গ্রাহক গড় আয় বা ARPU উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আর এয়ারটেলের এই পথে হেঁটে অদূর ভবিষ্যতে জিও কিংবা ভোডাফোন-আইডিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। তাই আপনার পরবর্তী মোবাইল রিচার্জ করার আগে অবশ্যই Airtel Thanks অ্যাপে লগইন করে আপনার সার্কেলের লেটেস্ট ট্যারিফ প্ল্যানগুলি যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।