বিস্ফোরণের মুহূর্তের নতুন CCTV, লালকেল্লার কাছে তীব্র ঝাঁকুনি, প্রাণ বাঁচাতে দিশেহারা মানুষের ছুটোছুটি

দিল্লির লালকেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি ট্র্যাফিক সিগন্যালে ধীর গতিতে চলতে থাকা একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণটি ঘটে।

বিস্ফোরণের মুহূর্তের আতঙ্ক: বিস্ফোরণের মুহূর্তের একটি নতুন সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে, যা লালকেল্লার কাছে অবস্থিত একটি জমজমাট বাজারের দৃশ্য দেখাচ্ছে। যদিও বিস্ফোরণের দৃশ্য সরাসরি দেখা যায়নি, তবে ফুটেজে হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে ছুটতে শুরু করেন। হুড়োহুড়ি শুরু হয়, এবং আতঙ্কিত দোকানদারদের দ্রুত দোকানের ভেতরে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।

ঘাতক গাড়ির রুট ম্যাপ: দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘাতক গাড়িটির গতিবিধি ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক।

সকাল ৮:০৪: ফরিদাবাদের বদরপুর টোল বুথ দিয়ে গাড়িটি দিল্লিতে প্রবেশ করে।

সকাল ৮:২০: ওখলা শিল্পাঞ্চলের কাছে একটি পেট্রল পাম্পে গাড়িটিকে জ্বালানি ভরতে দেখা যায়।

দুপুর ৩:১৯: দীর্ঘক্ষণ ঘোরাফেরার পর গাড়িটিকে লালকেল্লার সামনে সুনেহরি মসজিদ এলাকায় পার্ক করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, এই দীর্ঘ সময় হামলাকারী এলাকায় রেকি করছিল।

সন্ধ্যা ৬:২২: গাড়িটিকে পার্কিং থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

সন্ধ্যা ৬:৫৫: লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে সুভাষ মার্গে ইউ-টার্ন নিয়ে থামার পরই বিস্ফোরণটি ঘটে।

জঙ্গি যোগ ও তদন্ত: বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগেই এক কাশ্মীরি চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া নেওয়া দুটি ঘর থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই বিস্ফোরকই বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে কালো মুখোশ পরা এক ব্যক্তিকে গাড়িটি চালাতে দেখা গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন যে মুখোশধারী ব্যক্তিটি ফরিদাবাদে পলাতক ডা. উমর মহম্মদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ কি না। ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কমপক্ষে ১৩ জন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, তদন্ত সকল দিক খতিয়ে দেখছে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের রেহাই দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ শোপিয়ান ও পুলওয়ামায় রাতভর অভিযান চালিয়ে তারিক আহমেদ দার-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে।