বিসর্জনের দিন মদ দোকানে তালা! ২ অক্টোবর কেন ‘ড্রাই ডে’? পুজোয় পানীয় মজুত করার আগে অবশ্যই পড়ুন!

শারদ উৎসবের আবহে ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে কলকাতা সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গ। পঞ্চমী পেরিয়ে প্যান্ডেল হপিং শুরু, রাস্তায় নেমেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি এই দুর্গাপুজো মানেই জমজমাট আড্ডা, এলাহি খাওয়াদাওয়া আর বাঁধনহারা আনন্দ। আর সেই আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় মদ্যপান।
কিন্তু উৎসবের মাঝেই মদ্যপায়ীদের জন্য সামান্য দুঃসংবাদ দিল রাজ্য সরকার। এবারের পুজোয় একদিন ‘ড্রাই ডে’ বা শুখা দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ, ওই নির্দিষ্ট দিনে রাজ্যের কোনও মদের দোকান (Liquor Shops) খোলা থাকবে না।
কবে এই নিষেধাজ্ঞা?
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ২ অক্টোবর ২০২৫, অর্থাৎ বিজয়া দশমীর দিন বন্ধ থাকবে রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান। একই দিনে পালিত হবে মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী। প্রতি বছরই এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে মদ বিক্রির উপর দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা থাকে। ফলে দুর্গাপুজোর হুল্লোড়ের মাঝেই সেই কঠোর নিয়ম জারি থাকবে এবছরও।
আবগারি দফতর পরিষ্কার জানিয়েছে, ওই দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সব মদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। কোনও ধরনের বিক্রি বা পরিবেশন করা যাবে না। এমনকি রেস্তোরাঁ ও বারে মদ পরিবেশনেও কড়া বিধিনিষেধ থাকবে। আইন ভঙ্গ করলে দোকানের লাইসেন্স বাতিল, মোটা জরিমানা সহ কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক কারণ। গান্ধীজয়ন্তী উপলক্ষে দেশজুড়ে অহিংসা ও সংযমের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে প্রতি বছর ২ অক্টোবরকে ‘ড্রাই ডে’ হিসেবে পালন করা হয়। এবার সেই দিনটি মিলেছে দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর সঙ্গে। প্রশাসনের তরফে মনে করা হচ্ছে, পুজোর আনন্দে সামান্য ছেদ পড়লেও জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এটিই সঠিক উপায়।
অতীতে দুর্গাপুজোর সময় মদের দোকান বন্ধ রাখার নিয়ম ছিল আরও কঠোর। অষ্টমী এবং দশমীর দিন বিকেল ৫টার পর দোকান বন্ধ রাখতে হত। তবে ২০১৬ সালে রাজ্য সরকার সেই পুরনো নিয়ম বাতিল করে পুজোর সময় দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেয় এবং ড্রাই ডে-র সংখ্যাও কমিয়ে আনা হয়। কিন্তু গান্ধীজয়ন্তীর দিনে এই নিয়মের কোনও পরিবর্তন ঘটেনি।
পুজোর সময় সাধারণত মদের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বারের ব্যবসাও তুঙ্গে থাকে। তাই যাঁরা পানীয় মজুত করে রাখতে চান, তাঁদের জন্য বার্তা— বিজয়া দশমীর আগেই পরিকল্পনা সেরে নিন। কারণ ২ অক্টোবর মদ কেনা বা রেস্তোরাঁ-বারে খাওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না।