দেশের সর্বোচ্চ আদালতে যখন পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে এবং বিচারপতিরা উভয় পক্ষের যুক্তি খতিয়ে দেখছেন, ঠিক সেই আবহে তেলঙ্গানা থেকে সামনে এল এক হাড়হিম করা ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, ভোটের আগে দেওয়া বিতর্কিত ‘প্রতিশ্রুতি’ পূরণ করতে কামারেড্ডি এবং হাম্মানকোন্ডা জেলায় অন্তত ৫০০ পথকুকুরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে এই গণহত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পশুপ্রেমীদের।
কী ঘটেছিল মাচারেড্ডিতে? ঘটনার সূত্রপাত ১২ জানুয়ারি ২০২৬। ‘স্ট্রে অ্যানিম্যাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’র ম্যানেজার অদুলপুরাম গৌতম মাচারেড্ডি থানায় একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পালওয়াঞ্চা মন্ডলের অধীনে থাকা ভাবানিপেট, ফারিদপেট, ওয়াদি এবং বান্দারমেশওয়ারাপল্লি গ্রামে গত ২-৩ দিনে প্রায় ২০০ কুকুরকে মেরে ফেলা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১২ জানুয়ারি দুপুরে খোদ গ্রামপ্রধানদের চোখের সামনেই এই নারকীয় ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় অভিযোগকারী এবং তাঁর বন্ধুরা ওই এলাকায় গিয়ে কুকুরদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। কিশোর পাণ্ডে নামক এক ব্যক্তি এবং ৫টি গ্রামের প্রধানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভোটের টোপ কি প্রাণ কাড়ল অবলাদের? সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নৃশংসতার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা। অভিযোগ, নির্বাচনের আগে কিছু গ্রামপ্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তাঁরা এলাকাকে ‘পথকুকুর মুক্ত’ করবেন। সেই ভয়ংকর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই এই ‘কুকুর হত্যা অভিযান’ চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের খাতায় ৯ জনের নাম উঠেছে, যার মধ্যে দুইজন মহিলা গ্রামপ্রধান এবং তাঁদের স্বামীরা রয়েছেন। হাম্মানকোন্ডা জেলার শ্যামপিট এবং আরেপল্লি গ্রামে একইভাবে ৩০০ কুকুরকে বিষ খাইয়ে মারার অভিযোগ সামনে এসেছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও বর্তমান পরিস্থিতি: অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে পথকুকুর সংক্রান্ত মামলায় বিচারপতিরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। কেউ ওদের বাড়ির ভেতর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন, তো কেউ কুকুরদের আচরণের ওপর নজর রাখার কথা বলছেন। ঠিক এই সময়ে তেলঙ্গানার এই ঘটনা পুরো বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আপাতত মাচারেড্ডি এবং হাম্মানকোন্ডা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দেহের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আধুনিক সমাজে ভোটের জন্য এমন অমানবিক ঘটনা গণতন্ত্রের লজ্জা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





