বিশ্ব অর্থনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ! সমস্ত প্রতিকূলতা উড়িয়ে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধিতে রেকর্ড ঝড়!

বিশ্বজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং অর্থনীতির নানা প্রতিকূল পরিবেশকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে ভারত। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে। বৈশ্বিক সংকটের মুখেও ভারতের এই অভাবনীয় অর্থনৈতিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বিনিয়োগকারী সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি ভারতে বিদেশি বিনিয়োগের অভূতপূর্ব উন্নতির চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।

বুধবার নিউইয়র্কে ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল এবং ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা, নিউইয়র্কের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিনিয়োগকারীদের একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “বিশ্বব্যাপী নানা অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৮ শতাংশ। সমস্ত বাধা পেরিয়ে ভারত বর্তমান বিশ্বে দ্রুততম বেড়ে চলা প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজের শীর্ষস্থান বজায় রেখেছে।” একই সঙ্গে বিশ্বব্যাঙ্কের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও বেশি মাত্রায় বাড়ানোর তীব্র ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি।

অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত এক সরকারি পোস্টে এই সাফল্যের কথা ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত জি-২০ অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সফলভাবে অংশ নেওয়ার পরই নির্মলা সীতারমন সোজা নিউইয়র্কে পৌঁছান। সেখানে জি-২০ এর বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নরদের বৈঠকের ফাঁকেই তিনি বিশ্বব্যাঙ্কের ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গার সঙ্গে একটি একান্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসেন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, কর্পোরেট ও মিউনিসিপ্যাল বন্ডের বাজারকে আরও বেশি শক্তিশালী করা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ভারত এবং এই আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব কীভাবে আরও বেশি জোরদার করা সম্ভব, সেই রূপরেখাও উঠে আসে এই বৈঠকে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অজয় বঙ্গাকে।

এদিনের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী সীতারমন আরও জানান যে, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি মজবুত করতে বেশ কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মূলধনী সম্পদ সৃষ্টি, পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে উন্নত করা এবং গোটা শিল্পক্ষেত্রকে নতুন গতি প্রদান করা। এছাড়াও, লগ্নির জন্য সম্পূর্ণ অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডেটা সেন্টারের আধুনিক উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (MSME) জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির খেলাপি ঋণ বা এনপিএ (NPA) কমানোর ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর মতে, সরকারের এই সুদূরপ্রসারী ও সঠিক পদক্ষেপগুলি দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক শিল্পমহলকে আমূল বদলে দিতে ও দ্রুত এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। করোনা মহামারী-পরবর্তী সময় থেকে বিশ্ব অর্থনীতি যখন বহু জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই কঠিন সময়েও ভারত গত কয়েক বছর ধরে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের প্রতি অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছে। নির্মলা সীতারমন ভারতের বিনিয়োগ পরিবেশের অসামান্য উন্নতির দিকটি জোরালোভাবে তুলে ধরে জানান যে, বর্তমান সময়ে দেশের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি যৌথভাবে বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে এক সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চলেছে। অর্থ মন্ত্রকের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল পোস্ট অনুযায়ী, আগামী দিনে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত এবং আমেরিকা উভয় দেশই এই দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির অভূতপূর্ব সুফল লাভ করবে।