মঞ্চ ছাড়তেই রামলীলা ময়দানে চলল ‘শুদ্ধিকরণ’! মল্লিকার্জুন খাড়গের জনসভা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক!

উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পর রামলীলা ময়দানে তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে ফের তীব্র জলঘোলা শুরু হয়েছে। এই মর্মে ঘটনার দীর্ঘ ২৪ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো প্রথম তথ্য প্রতিবেদন বা এফআইআর দায়ের না করায় সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। তিনি এই বিষয়ে রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডাকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে খাড়গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতে সংসদে এই ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করে রাজ্যসভায় যে সরকারি আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নির্দেশ পাঠানো হোক।
চিঠিতে মল্লিকার্জুন খাড়গে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এই ইস্যুটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত বা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের সভাপতি হিসেবে জড়িত থাকার গণ্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দেশের লক্ষ লক্ষ এমন মানুষের বৃহত্তর অনুভূতি ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যারা প্রতিদিন এই ধরনের নির্মম সামাজিক বৈষম্য ও মানসিকতার বাস্তবতার মুখোমুখি হন। এই ধরনের হীন মানসিকতা সম্পন্ন দুষ্কৃতকারী এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলিকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। খাড়গে তাঁর চিঠিতে জেপি নাড্ডাকে উদ্দেশ করে লিখেছেন যে, সংসদের উচ্চকক্ষে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাকে খণ্ডন করে খোদ জেপি নাড্ডা এবং মাননীয় চেয়ারম্যান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ে নাড্ডা সসম্মানে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে বিজেপি এই ধরনের কার্যকলাপ কোনোভাবেই সমর্থন করে না এবং জাতীয় সভাপতি হিসেবে তিনি নিজে বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তবে দীর্ঘ ২৪ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে কোনো এফআইআর নথিভুক্ত না করায় গভীর বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। চিঠির শেষাংশে তিনি জেপি নাড্ডাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছেন যেন তিনি অবিলম্বে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন, যাতে এই জঘন্য শুদ্ধিকরণ কাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তি এবং সংগঠনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গণতন্ত্রের মূল কাঠামোর ওপর এই ধরনের আঘাত এবং সামাজিক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত এফআইআর দায়ের করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন খাড়গে।