বিশ্বের ১১ শতাংশ মুসলিম ভারতে, ২০৫০ সালের মধ্যে হিন্দু- মুসলিমের সংখ্যা কত হবে? জানলে অবাক হবেন

বিশ্বের ধর্মীয় জনসংখ্যার মানচিত্রে এক বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টার (Pew Research Center)-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী ২৫ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হবে। বর্তমানে খ্রিস্টানদের পরেই মুসলিমদের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে হিন্দুরা। কিন্তু ২০৫০ সাল নাগাদ এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
বিশ্বের ধর্মীয় জনসংখ্যার পূর্বাভাস
পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ২.৭৬ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে, যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা হবে প্রায় ১.৩৮ বিলিয়ন। অর্থাৎ, এই দুই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মানুষের পার্থক্য থাকবে।
মুসলিম জনসংখ্যা: ২০১০ সালে বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ১.৬০ বিলিয়ন। ২০৫০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ২.৭৬ বিলিয়ন হবে। এর ফলে, বিশ্ব জনসংখ্যার ২৯.৭% হবে মুসলিম।
হিন্দু জনসংখ্যা: ২০১০ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১.০৩ বিলিয়ন। ২০৫০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ১.৩৮ বিলিয়ন হবে। তবে বিশ্ব জনসংখ্যার শতাংশের হিসাবে হিন্দুদের ভাগ কিছুটা কমে ১৪.৯% হতে পারে।
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হিন্দুদের তুলনায় অনেক বেশি হবে।
ভারতে হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যা
পিউ রিসার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতেও এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতের মোট জনসংখ্যার ৭৯.৮% হিন্দু এবং ১৪.২% মুসলিম।
২০৫০ সাল নাগাদ ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩১ কোটি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্ব মুসলিম জনসংখ্যার ১১% হবে।
অন্যদিকে, ভারতে হিন্দু জনসংখ্যা বেড়ে ১.৩ বিলিয়ন হবে, যা বিশ্বে বৃহত্তম হিন্দু জনসংখ্যা হিসেবেই থাকবে।
খ্রিস্টান জনসংখ্যা
প্রতিবেদনটিতে খ্রিস্টানদের জনসংখ্যা নিয়েও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ধর্ম হিসেবে খ্রিস্টান ধর্ম তার অবস্থান ধরে রাখবে। ২০৫০ সালের মধ্যে খ্রিস্টানদের মোট জনসংখ্যা বেড়ে ২.৯১ বিলিয়ন হবে, যা বিশ্ব জনসংখ্যার ৩১.৪%।