মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা এবং ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মেঘ যখন বিশ্ব অর্থনীতির আকাশে, তখন উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা দিল ভারত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) তাদের সাম্প্রতিক ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে জানিয়েছে, আগামী দুই বছর বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির তকমা ধরে রাখবে ভারত। ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে ৬.৫ শতাংশ করেছে সংস্থাটি। এর পিছনে ভারতের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে আসার মতো ইতিবাচক কারণগুলি বড় ভূমিকা পালন করছে।
তবে বৈশ্বিক চিত্রটা বেশ উদ্বেগের। আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে তেলের বাজার অস্থির হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.৩ থেকে কমিয়ে ৩.১ শতাংশ করা হয়েছে। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে মুদ্রাস্ফীতি ৪.৪ শতাংশ পর্যন্ত লাফাতে পারে। আইএমএফ-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের-অলিভিয়ের গৌরিনচাস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা এবং ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের জেরে জ্বালানি ও সারের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, যা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে ২ শতাংশের নিচে নামিয়ে দিতে পারে—যেমনটা ঘটেছিল ২০০৮-এর মন্দা বা কোভিডের সময়। এই পরিস্থিতিতে চীন ও আমেরিকার প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হলেও, ভারতের স্থিতিশীল অর্থনীতি বিশ্ববাজারে এক নতুন ভরসার জায়গা তৈরি করেছে।





