বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের নিজস্ব মেলা, কেন এই মেলায় বাইরের কেউ দোকান দিতে পারে না?

মহালয়ার পুণ্য তিথিতে আবারও জমে উঠেছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী আনন্দমেলা। প্রত্যেক বছর মহালয়ার দিন থেকে গৌরপ্রাঙ্গণে এই মেলা শুরু হয়। এই মেলাটি বিশ্বভারতীর ছাত্র-ছাত্রীদের নিজস্ব, তাই বাইরের কেউ এখানে দোকান দেওয়ার সুযোগ পান না। এই মেলার মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং দরিদ্র ভাণ্ডার সেবা তহবিলে অর্থ সংগ্রহ করা। এই টাকা পরে দুস্থ শিক্ষার্থীদের সাহায্যার্থে ব্যবহার করা হয়।

কী আছে এই আনন্দমেলায়?
এই মেলায় অভিনব পসরা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ভবনের পড়ুয়ারা। নানাবিধ শিল্পকর্ম, হাতে গড়া জিনিসপত্র, হরেক রকম খাবার, পিঠে, মিষ্টি, চা-কফি, ঘুগনি, চপ-পেঁয়াজিসহ আরও অনেক কিছু পাওয়া যায়। এছাড়াও, তাৎক্ষণিক কবিতা লেখা, ছবি আঁকা, গৃহসজ্জার ছোট ছোট সামগ্রী এবং খেলনাও পাওয়া যায়। মেলায় ঢাক-কাঁসরের শব্দে এক উৎসবের আমেজ থাকে। উপাচার্যসহ অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রথা মেনে ফিতে কেটে মেলার উদ্বোধন করা হয়।

এক শতকের পুরোনো ঐতিহ্য
আনন্দমেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল ১০০ বছরেরও বেশি আগে, ১৯১৫ সালের ১৫ এপ্রিল, বাংলা নববর্ষের দিন। বর্তমানে এই মেলাটি শারদোৎসবের নাটক-পালা শেষে মহালয়ার দিন অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পায়। এটি শুধুমাত্র একটি মেলা নয়, বরং গুরুদেবের ভাবাদর্শে সকলের মধ্যে একতার মন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম। বর্তমানে এই মেলাটি দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরের পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে।