‘বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য!’ কেন এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা?

রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগ দুর্নীতির বিতর্কের মধ্যেই এবার বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এক অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো’ অভিজ্ঞতার শংসাপত্র দিয়ে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত অধ্যাপিকা জলি ভট্টাচার্য এবং অধ্যাপক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ?
ইলামবাজারের কবি জয়দেব মহাবিদ্যালয় থেকে একটি অভিজ্ঞতার শংসাপত্র নিয়ে জলি ভট্টাচার্য বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অতিথি অধ্যাপিকা হিসেবে নিযুক্ত হন। বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দিলীপ কুমার মাইতি ওই শংসাপত্রটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে কবি জয়দেব মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকে চিঠি লেখেন। অধ্যক্ষ মহাদেব দেবাংশী জবাবে জানান যে, তার অনুপস্থিতিতে তার সিলমোহর ব্যবহার করা হয়েছে এবং স্বাক্ষরটিও তার নয়। তিনি আরও বলেন, যেদিন শংসাপত্রটি দেওয়া হয়েছিল, সেদিন তিনি কলেজে ছিলেন না। জানা গেছে, বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়েরই সহযোগী অধ্যাপক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যক্ষের সিলমোহর ব্যবহার করে শংসাপত্রটি দিয়েছিলেন।
বিজেপির কড়া মন্তব্য
এই ঘটনা নিয়ে বিজেপি রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করেছে। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য। এখানে একটিও স্থায়ী পোস্ট নেই, অস্থায়ী লোক দিয়ে চলছে একটা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে এক অধ্যাপিকার ভুয়ো অভিজ্ঞতার শংসাপত্র দিয়ে নিয়োগ হয়েছে শুনলাম। স্থায়ী পোস্ট না থাকলে দুর্নীতি স্বাভাবিক।”
এই বিষয়ে বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দিলীপ কুমার মাইতি বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে। এখনই কোনও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কিছু বলব না।”