শেয়ার বাজারের চড়াই-উতরাই আর লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই এখন সুরক্ষিত বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। কম ঝুঁকি নিয়ে নিশ্চিত মুনাফাই এখন অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর লক্ষ্য। আর এই পরিস্থিতিতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে পোস্ট অফিসের স্মল সেভিংস স্কিমগুলো, বিশেষ করে পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট (RD) স্কিম। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা শুধু সুরক্ষিত বিনিয়োগই নয়, পাচ্ছেন মুনাফারও গ্যারান্টি।
পোস্ট অফিসের জনপ্রিয় স্কিমগুলির মধ্যে অন্যতম এই রেকারিং ডিপোজিট (RD) স্কিম, যা পাঁচ বছর পর ম্যাচিওর করে। যেকোনো নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে গিয়ে খুব সহজেই একটি RD অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। সর্বনিম্ন ১০০ টাকা দিয়েও এই স্কিমে বিনিয়োগ শুরু করা যেতে পারে।
এই স্কিমের একটি বিশেষ সুবিধা হলো, প্রয়োজনে অ্যাকাউন্টটি ম্যাচিওর হওয়ার আগেও বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও, জরুরি প্রয়োজনে ঋণের সুবিধাও পাওয়া যায়। এক বছর পর্যন্ত জমা করা টাকার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যেতে পারে। তবে, এই ঋণের উপর সাধারণ সুদের হারের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি সুদ দিতে হয়। বর্তমানে, পোস্ট অফিসের RD স্কিমে সুদের হার ৬.৮ শতাংশ।
হিসেব কষলে বাড়তি লাভ: আপনার বিনিয়োগ কত হবে?
আসুন, দেখে নেওয়া যাক এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে আপনার তহবিল কত বাড়তে পারে:
৫ বছরের বিনিয়োগ: যদি আপনি পোস্ট অফিসের RD স্কিমে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে বিনিয়োগ করেন, তাহলে ম্যাচিওরিটি পিরিয়ডে ৫ বছরে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ৩ লক্ষ টাকা। ৬.৭ শতাংশ সুদে এর সঙ্গে যোগ হবে অতিরিক্ত ৫৬ হাজার ৮৩০ টাকা। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ৫ বছরে আপনার ফান্ডে মোট ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৩০ টাকা জমা হবে। (উল্লেখ্য: এখানে একটি অসঙ্গতি ছিল – ৩ লক্ষ + ৫৬,৮৩০ = ৩,৫৬,৮৩০। মূল লেখায় ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৩০ টাকা বলা হয়েছে, যা সম্ভবত মুদ্রণ প্রমাদ। আমি গণিত অনুযায়ী সঠিক অঙ্কটি দিয়েছি।)
১০ বছরের বিনিয়োগ: যদি আপনি RD অ্যাকাউন্টটি আরও ৫ বছরের জন্য বাড়িয়ে মোট ১০ বছর রাখেন, তাহলে আপনার মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৬ লক্ষ টাকা। ৬.৭ শতাংশ সুদে এর সঙ্গে আরও ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ২৭২ টাকা যোগ হবে। সব মিলিয়ে ১০ বছরে আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অঙ্কের পরিমাণ দাঁড়াবে ৮ লক্ষ ৫৪ হাজার ২৭২ টাকা।
কেন RD স্কিম এখন জনপ্রিয়?
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যেখানে শেয়ার বাজার বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, সেখানে পোস্ট অফিসের RD স্কিম একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি কেবল আপনার মূলধনকেই সুরক্ষিত রাখছে না, বরং নিশ্চিত সুদের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রিটার্নেরও গ্যারান্টি দিচ্ছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে, যেখানে তারা কোনো রকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময় পর নিশ্চিত অর্থ ফেরত পেতে পারেন।