‘বিশেষ ব্যাজ’ বনাম ‘খালি প্রতীক’! ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতিতে মুখোমুখি শাসকদলের দুই গোষ্ঠী

তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন ২১শে জুলাই। কিন্তু এবছর শহিদ স্মরণ দিবসের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এবারের ২১শে জুলাই শাসকদলের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের বড় মঞ্চ। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তৃণমূলের বিদ্রোহী বা ‘নতুন’ অংশ—দুই শিবিরেই প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল সভায় ২৫০০ জনের বেশি জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সভায় নেই তেমন কোনো বিধিনিষেধ। এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে ঋতব্রত শিবির। সমাবেশ সফল করতে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সন্দীপন সাহা এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। বিশেষ কৌশল হিসেবে কর্মীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘বিশেষ ব্যাজ’। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, এই ব্যাজেই বোঝা যাবে কোন জেলা থেকে কত কর্মী আসছেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

অন্যদিকে, কালীঘাট শিবির এই ব্যাজকে কটাক্ষ করে বলছে, এটি আসলে সভাস্থলে আসার অঘোষিত পাস। তাঁদের পরিকল্পনা, কোনো পতাকা নয়, কেবল প্রতীক নিয়ে সমর্থকরা উপস্থিত হবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের নজরে এখন ‘সোশ্যাল জমায়েত’, যেখানে লোকসমাগমের চেয়ে বার্তা পৌঁছে দেওয়াটাই আসল লক্ষ্য।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, “২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি শহিদ স্মরণকেন্দ্রিক, এটি কোনো বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বা রিয়েলিটি শো নয়। মঞ্চে সেলিব্রিটিদের ভিড় থাকবে না, বরং শহিদ পরিবারের সদস্যদেরই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ঋতব্রত বলেন, হতাশা ও রাজনৈতিক অবসাদ থেকেই তিনি বিতর্কিত কথা বলছেন। শহিদ পরিবারকে অপমান করার অধিকার কারও নেই।

বীরভূমের ভিড় টানার দায়িত্বে অভিজিৎ ‘রাণা’ সিনহা, আবার উত্তরের জেলাগুলোতে নব্য তৃণমূলের হয়ে ময়দানে বিপ্লব মিত্র—পরিকল্পনা চলছে সবদিকেই। একুশে জুলাইয়ের দিন কার সভায় জনস্রোত বেশি হয় এবং কে রাজনৈতিকভাবে চালকের আসনে বসতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। শর্ত সাপেক্ষে আয়োজিত মূল সভার সীমাবদ্ধতা ও গান্ধী মূর্তির পাদদেশের সভার উন্মুক্ত সুযোগ—সব মিলিয়ে ২১শে জুলাইয়ের লড়াই এখন কেবল শহিদ স্মরণের নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরে কে কতটা প্রভাবশালী, তা প্রমাণ করার রণক্ষেত্র।