বিশেষভাবে গ্রাহ্য করা হবে’! তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের উদ্বেগ কমাতে কী জানালো নির্বাচন কমিশন? সমাধান কী?

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের তৃতীয় লিঙ্গের (Transgender) মানুষজন নিজেদের ভোটাধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগে ভুগছেন। বিশেষ করে যারা Gender Reassignment Surgery (SRS) করিয়েছেন এবং নাম ও লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন, তাঁরা ভোটার তালিকায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবেন কি না, সেই নিয়ে আতঙ্কে আছেন।
এই উদ্বেগ নিরসনে রাজ্যের গরিমা গৃহের ডিরেক্টর এবং ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট রঞ্জিতা সিনহা সম্প্রতি সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।
ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের মূল সমস্যা ও উদ্বেগ
তৃতীয় লিঙ্গের মানুষজনের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, SIR প্রক্রিয়া মূলত ২০০২ সালের ভোটার তালিকার ওপর ভিত্তি করে চলছে। কিন্তু গত দুই দশকে বহু ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি নাম ও লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন:
লিঙ্গ পরিবর্তনের সমস্যা: সম্রাজ্ঞী দত্ত নামে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তি জানান, ২০০২ সালে তিনি তাঁর পুরুষ নাম ও লিঙ্গ দিয়ে ভোট দিলেও, বর্তমানে তিনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করে নতুন নাম ও ছবি দিয়ে ভোটার কার্ড করিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, SIR-এ নতুন কার্ড টিকবে তো?
পরিচয় ও ঠিকানা: কল্পনা নস্কর নামে আরেক ব্যক্তি জানান, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় তিনি নতুন ভোটার কার্ডে বাবা বা মায়ের স্থানে ‘গুরুমা’র নাম ব্যবহার করেছেন। এই ক্ষেত্রে কী নিয়ম হবে?
নথিপত্রের অভাব: অনেকে নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় এফিডেভিট বা কেন্দ্র সরকারের ট্রান্সজেন্ডার আইডেন্টিটি কার্ড দেখালেও, ১২টি গ্রাহ্য নথির তালিকায় সেই কার্ডের উল্লেখ নেই।
রঞ্জিতা সিনহা তাঁর চিঠিতে এই সব সমস্যার কথা উল্লেখ করে ওয়েস্টবেঙ্গল ট্রান্সজেন্ডার বোর্ডের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস ও সমাধান সূত্র
তবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতরের এক আধিকারিক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের উদ্বেগ কমাতে এক আশ্বাসবাণী দিয়েছেন। তিনি জানান, কারোর আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ তৃতীয় লিঙ্গের সমাজের বিষয়টি বিশেষভাবে গ্রাহ্য করা হবে।
ফর্ম পূরণের নির্দেশ: যেখানে ২০০২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে, সেখানে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা সেদিনের নাম ব্যবহার করবেন। আর বর্তমান তথ্যের স্থানে বর্তমান নাম ও তথ্য দেবেন।
গুরুমার নাম গ্রহণ: যেখানে বাবা-মায়ের পরিচয় লিখতে হবে, সেখানে ‘গুরুমা’র নামই বসানো যাবে।
শুনানির ব্যবস্থা: শুনানির সময় তাঁদের বক্তব্য শোনা হবে এবং আলোচনা করা হবে। সেই সময় তাঁরা তাঁদের এফিডেভিট কিংবা গেজেট নোটিফিকেশনের কপি জমা দিতে পারবেন।
এই আশ্বাসে আপাতভাবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না।