‘বিশাল’ দস্তানায় আটকে গেল হাবাসের ইস্টবেঙ্গল! সাহালের একমাত্র গোলে ডুরান্ডের ডার্বি জয় সবুজ-মেরুনের

অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং সমস্ত বিদেশি ফুটবলারদের ছাড়াই ডুরান্ডের উদ্বোধনী মহারণে দুই প্রধানের মাঠে নামাটা আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। বাস্তবেও তাই দেখা গেল। মরশুমের প্রথম ডার্বিতে দুই দলই মূলত ভারতীয় ব্রিগেডকে ভরসা করে মাঠে নেমেছিল। তবে ঘরের মাঠে মরশুমের প্রথম ডার্বি ম্যাচে ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়েই বাজিমাত করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সাহাল আব্দুল সামাদের একমাত্র গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের ডার্বি জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল সবুজ-মেরুন। আর লাল-হলুদ ডাগআউটে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের অভিষেক ম্যাচেই তাঁকে ট্যাকটিক্যাল লড়াইতে পুরোপুরি টেক্কা দিলেন মোহনবাগানের নতুন কোচ প্যানাগিওটিস ডিম্পেরিস।

খেলার গতিপ্রকৃতি: প্রথমার্ধ থেকে জয়সূচক গোল

ম্যাচের শুরুটা অত্যন্ত দ্রুত লয়ে করেছিল ইস্টবেঙ্গল। দেখে বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় ছিল না যে অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে তারা মাঠে নেমেছে। তবে প্রথম কোয়ার্টার পেরোতেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় মোহনবাগান। মনবীর সিং এবং সাহাল আব্দুল সামাদরা বল পজেশনে সামান্য এগিয়ে থেকে একাধিক আক্রমণ তৈরি করতে শুরু করেন। উলটোদিকে, প্রথমার্ধের প্রথম ৪৫ মিনিটে এডমুন্ড লালরিনডিকা ও ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গাদের নিয়ে গড়া ইস্টবেঙ্গল আক্রমণভাগ মোহনবাগান রক্ষণে সেভাবে বড় কোনো ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারেনি। ২৪ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে বক্সের মধ্যে একটি হ্যান্ডবলের জোরালো আবেদন উঠলেও রেফারি তাতে কর্ণপাত করেননি। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়িয়ে গোল তুলে নেয় মোহনবাগান। ৫৪ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবের সুযোগ নিয়ে দারুণ আক্রমণ শানায় তারা। ডানদিক থেকে কিয়ান নাসিরির নিচু ক্রস থেকে ফাঁকা গোলে বল জালে ঠেলে দিতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি সাহাল আব্দুল সামাদ (১-০)।

বিশাল কাইথের দেয়াল ও লাল-হলুদের মরিয়া লড়াই

গোল খাওয়ার পরেই দলের আক্রমণভাগে গতি বাড়াতে একমাত্র বিদেশি হিসেবে মহম্মদ রশিদকে মাঠে নামান কোচ হাবাস। রোহিত দানুর পরিবর্তে পিভি বিষ্ণু নামায় ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণে আরও তেজ আসে। বেশ কিছু ভালো সুযোগও তৈরি করে লাল-হলুদ শিবির। মেহতাব সিং ও রাহুল ভেকে সমৃদ্ধ শক্তপোক্ত বাগান রক্ষণকে ভেদ করার চেষ্টা চালালেও গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয় তারা। বিষ্ণুর একটি দুর্দান্ত শট বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণভাবে বাঁচিয়ে দেন মোহনবাগান দুর্গের অতন্দ্র প্রহরী গোলকিপার বিশাল কাইথ। লালচুংনুঙ্গার একটি শক্তিশালী ভলিও অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন তিনি।

মোহনবাগানও দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসেবে দেজান দ্র্য়াজিচকে মাঠে নামায়। খেলার শেষলগ্নে ইস্টবেঙ্গলের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে রক্ষণ জমাট করতে নেমে পড়েন আলবার্তো রড্রিগেজও। ম্যাচের শেষদিকে ইস্টবেঙ্গলের দ্বিতীয় বিদেশি দানি রামিরেজ গোলের খুব কাছে চলে এসেছিলেন, কিন্তু বিষ্ণুর ক্রস থেকে তাঁর শট পোস্টে প্রতিহত হয়। এছাড়া শেষ মুহূর্তে মহম্মদ রশিদের একটি জোরালো শটও নিজের শরীরকে বাতাসে ভাসিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় সেভ করেন বিশাল কাইথ।

সবমিলিয়ে, দারুন লড়াইয়ের পর একমাত্র গোলের জয়ে ডিম্পেরিস-যুগ শুরু হলো মোহনবাগানে। অন্যদিকে, ভারতসেরা ও ঐতিহ্যশালী লাল-হলুদ শিবিরের হয়ে হাবাসের কামব্যাক ম্যাচটি মোটেও সুখের হলো না।