রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পদটি ঘিরে দিল্লির তপ্ত রাজনৈতিক আঙিনায় এখন টানটান উত্তেজনা। আসন্ন ১৬ই এপ্রিল এই পদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও, সরকার ও বিরোধী শিবিরের স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে পৌঁছেছে। জেডিইউ নেতা হরিবংশ নারায়ণ সিংকে পুনরায় ওই পদে বসাতে মরিয়া এনডিএ সরকার, অন্যদিকে বিরোধী জোটও ছেড়ে কথা বলতে নারাজ।
হরিবংশের পুনর্নিয়োগ ও সরকারের কৌশল: সম্প্রতি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে টানা তৃতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করেছেন হরিবংশ নারায়ণ সিং। সংসদীয় উচ্চকক্ষের চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পদটি শূন্য হয়েছিল। বিজেপি হাইকম্যান্ডের পূর্ণ আস্থাভাজন হরিবংশকে পুনরায় ওই পদে আসীন করতে এখন তৎপরতা শুরু হয়েছে সরকারি মহলে।
ঐকমত্যের চেষ্টা ও মন্ত্রীদের দৌত্য: নির্বাচন এড়াতে সরকার চাইছে সর্বসম্মতিক্রমে হরিবংশের নাম পাশ করাতে। এই লক্ষ্যে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং পীযূষ গোয়েল বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বিরোধীদের রাজি করিয়ে ভোটযুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়া। তবে সূত্র বলছে, যদি সমঝোতা না হয়, তবে ১৬ই এপ্রিলের পরিবর্তে ১৭ই এপ্রিল চূড়ান্ত ভোটগ্রহণ হতে পারে।
বিরোধীদের গোপন বৈঠক ও রণকৌশল: আগামী ১৫ই এপ্রিল কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে বিরোধীরা হরিবংশকে সমর্থন করবে নাকি পালটা কোনো হেভিওয়েট প্রার্থীকে ময়দানে নামাবে। বিশেষ সূত্রে খবর, নারী সংরক্ষণ বিলের মতো ইস্যুগুলোকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বিরোধী পক্ষ। ১৬ তারিখের মহাযুদ্ধে শেষ হাসি কে হাসবেন, তার ওপরই এখন নির্ভর করছে রাজ্যসভার আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ।





