বিরাট নির্দেশ! করবেট পার্কে সাফারি জিপসি রেজিস্ট্রেশন বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের, কারণ জানলে চমকে উঠবেন!

উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট জিম করবেট জাতীয় উদ্যানের সাফারি জিপসি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় একটি বড় হস্তক্ষেপ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) শুনানি শেষে হাইকোর্ট পার্কের ডিরেক্টরকে আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সমস্ত রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে একটি নতুন নীতি তৈরি করতে হবে, যার প্রধান লক্ষ্য হবে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
কেন হস্তক্ষেপ করল হাইকোর্ট?
আদালতের এই হস্তক্ষেপের মূল কারণ, পার্কের বর্তমান রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বৈধ পারমিটধারীদের গুরুতর অভিযোগ। আবেদনকারীদের যুক্তি, বর্তমান পদ্ধতিতে কিছু নির্দিষ্ট গাড়ি মালিককে অন্যায়ভাবে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ পারমিট থাকা সত্ত্বেও দুই বছর আগে রেজিস্ট্রেশন করা গাড়িগুলিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক যোগ্য স্থানীয় অপারেটর পর্যটনের এই ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রধান বিচারপতি জি. নরেন্দ্র এবং বিচারপতি সুভাষ উপাধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটি শোনেন। শুনানির সময় বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানায়, নতুন নীতি অবশ্যই করবেটের আশেপাশে বসবাসকারী মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সর্বাধিক করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হতে হবে, যাতে আরও বেশি স্থানীয় মানুষ সাফারি পর্যটন থেকে সুবিধা পান। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সমস্ত বৈধ পারমিটধারী—তাঁরা নতুন হোন বা পুরনো—আইনি মানদণ্ড পূরণ করলে জিপসি রেজিস্ট্রেশনের লটারিতে অংশগ্রহণের যোগ্য হবেন।
স্বচ্ছতার অভাব ও পুরোনো বিতর্ক
হাইকোর্ট পরবর্তী শুনানির আগে অর্থাৎ ২৭ নভেম্বর-এর মধ্যে নতুন নীতি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং অ্যাডভোকেটরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। করবেটে সাফারি পর্যটন বহু মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস হলেও, কাঠামোগত এবং প্রশাসনিক বাধার কারণে এতদিন এই ব্যবসার সমান বণ্টন হয়নি। এই আদালতের আদেশকে পর্যটন-ভিত্তিক ব্যবসার বণ্টনে বৃহত্তর ন্যায্যতার দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিরেক্টরের উপর চাপ: কী করতে হবে প্রশাসনকে?
আদালতের নির্দেশের পর বন ও পার্ক প্রশাসনকে এখন বিদ্যমান রেজিস্ট্রেশন নিয়ম, লটারির পদ্ধতি এবং যোগ্যতার মানদণ্ডগুলি পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে।
তাঁদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
পর্যটন ব্যবসায় স্থানীয়দের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
ইতিমধ্যে শক্তিশালী অপারেটরদের সুবিধা দেয় এমন একচেটিয়া প্রথা পরিহার করতে হবে।
প্রসঙ্গত, অতীতে করবেটের সাফারি পরিচালনায় বহু অনিয়ম দেখা গেছে। নিয়ম লঙ্ঘন বা অতিরিক্ত গতির কারণে বহু সাফারি গাড়িকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এমনকী, গাড়ির ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে—যেমন, একবার উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িরই মেয়াদ উত্তীর্ণ ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া গিয়েছিল, যা পরে তদন্তের জন্ম দেয়।
হাইকোর্টের এই কড়া নির্দেশ করবেট জাতীয় উদ্যানের সাফারি পরিচালনায় একটি নতুন ও স্বচ্ছ যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।