ইরানকে বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে রাজি নন ট্রাম্প! Axios-এর বিস্ফোরক রিপোর্ট উড়িয়ে দিয়ে ডোনাল্ড বললেন…

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের একবার চরম উত্তেজনার পারদ চড়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদসংস্থা ‘Axios’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের বিনিময়ে তিনি তেহরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে কোনো ছাড় বা তাদের ফ্রিজ করা তহবিল ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো প্রস্তাব দেননি।

নিজের ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ক্ষোভ উগরে দিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, “Axios একটি মনগড়া খবর প্রকাশ করেছে যে আমি নাকি ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় এবং তাদের আটকে থাকা তহবিল ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। এই খবর সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট।” এই প্রতিবেদনটিকে ‘ভুয়ো খবর’ (Fake News) বলে দাগিয়ে দিয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটির এই মিথ্যা প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, এই ধরনের মনগড়া সংবাদ পরিবেশনের পেছনে রয়েছে ‘ট্রাম্প ডেরেইঞ্জমেন্ট সিনড্রোম’-এর মতো মানসিকতা।

চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের আবহে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যেকার দূরত্ব যখন কমছে না, ঠিক সেই সময়ই এই বিতর্ক সামনে এল। দুই দেশকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে বিশ্বজুড়ে মধ্যস্থতাকারীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে Axios-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে নেয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে এবং জব্দ করা ইরানি তহবিল মুক্ত করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে এও স্বীকার করা হয়েছিল যে, মূল কয়েকটি ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তর মতপার্থক্য এখনও বহাল রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান মূলত হরমুজ প্রণালী এবং মার্কিন নৌ অবরোধকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু করতে চেয়েছিল। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সম্পূর্ণ ও নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির দাবি জানিয়েছিল। এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, পর্দার আড়ালে চলা এই পরোক্ষ আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক হলেও, কোন পক্ষ প্রথমে পদক্ষেপ নেবে বা প্রতিশ্রুতির সময়সীমা কী হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েই গেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, ইরানের পরমাণু সংকটের স্থায়ী ও সন্তোষজনক সমাধান না হলে কোনো বড় চুক্তি হওয়া অসম্ভব। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের ফলে আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের সমীকরণ আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।