জন্মের এক বছর আগে মাধ্যমিক পাশ? আইনি জটে পড়েও স্বস্তিতে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা চরমে ওঠার পাশাপাশি আইনি ময়দানেও বড় ধাক্কা খেল রাজ্য কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের প্রার্থীপদ খারিজ করার দাবি নিয়ে কংগ্রেস হাইকোর্টে যে মামলা করেছিল, তা আজ খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে হাসিরানি রথের লড়াই করার পথে সমস্ত আইনি বাধা কেটে গেল।

কী নিয়ে ছিল বিতর্ক? মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ করের মা হলেন হাসিরানি রথ। তাঁকেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্যের গরমিল নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিল কংগ্রেস। তাদের দাবি ছিল, প্রার্থীর জমা দেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র অনুযায়ী তিনি ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাশ করেছেন। অথচ সেই একই হলফনামায় তাঁর বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ৬০ বছর, যার অর্থ তাঁর জন্মসাল দাঁড়ায় ১৯৬৬ সালে।

কংগ্রেসের তীব্র কটাক্ষ ছিল, এই হিসাব ধরলে তো জন্মের এক বছর আগেই মাধ্যমিক পাশ করে ফেলেছেন হাসিরানি! হয় তিনি নিজের বয়স ভুল বলছেন, নতুবা তাঁর জমা দেওয়া মাধ্যমিকের সার্টিফিকেটটি জাল। এই যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছিল কংগ্রেস। সব পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছিল। অবশেষে আজ বিচারপতি কৃষ্ণ রাও কংগ্রেসের সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি শিবির।

অস্বস্তিতে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানও অন্যদিকে, এই মামলার মাঝেই আইনি জট কাটেনি নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের। সোমবার তাঁর জামিনের মামলাটি উঠলেও শুনানি স্থগিত রাখে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মঙ্গলবার এই মামলার নতুন শুনানির দিন ধার্য করেছেন। সব মিলিয়ে, পুজোর ঠিক আগে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ যে আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।