আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে হিন্দিভাষী ভোটারদের মন জয় করতে এবার আরও বড় আকারে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘দেব দীপাবলি’। তবে এবারের আয়োজনে নির্বাচনের পাশাপাশি বায়ু দূষণের বিষয়টি মাথায় রেখে কলকাতা পুরসভা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর এই দেব দীপাবলি হবে সম্পূর্ণ আলোর অনুষ্ঠান; কোনো আতশবাজি পোড়ানো হবে না সেখানে।
প্রতি বছর ছট পুজোর পর কার্তিক পূর্ণিমায় কলকাতা পুরনিগমের উদ্যোগে দক্ষিণ কলকাতার বাজা কদমতলা ঘাট বেনারসের কাশী বিশ্বনাথ ঘাটের আদলে সেজে ওঠে। একসময় গঙ্গার বুকে বার্জের উপর থেকে বিপুল পরিমাণ বাজি ফাটানো হতো, যা এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। কিন্তু বর্তমানে দূষণের কারণে সেই বাজি ও ধোঁয়া চিন্তার কারণ। তাই এবার পুরসভা সেই ঐতিহ্যবাহী বাজি সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পরিবেশ সচেতনতার একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।
বিশাল আয়োজন: পুরনিগম সূত্রে খবর, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর অনুষ্ঠানের গুরুত্ব কর্তৃপক্ষের কাছে অন্যরকম। বছর ঘুরলেই ভোট, আর তার আগে হিন্দিভাষী ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করতে এবার বিরাট আয়োজন করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকার অনুষ্ঠানের সরঞ্জামের বরাত দেওয়া হয়েছে। ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আসছে ১০ হাজারের বেশি ইলেকট্রনিক প্রদীপ, যা আলপনার সঙ্গে পুরো ঘাট জুড়ে সাজানো হবে। রাতের অন্ধকারে এই প্রদীপের আলোয় মোহময়ী রূপে সেজে উঠবে গঙ্গার ঘাট।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ: দুপুর থেকেই শুরু হবে গঙ্গা দেবীর মন্দিরে পুজো ও বিরাট যজ্ঞ। গোটা তল্লাট আলো দিয়ে সাজানো হবে এবং বসানো হচ্ছে দৈত্যাকার এলইডি স্ক্রিন, যেখানে সন্ধ্যা আরতি দেখানো হবে। দেবত্তের জয়চণ্ডী ঠাকুরানি ট্রাস্টের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলবে বিরাট আরতি পর্ব। ৫ হাজারেরও বেশি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে খিচুড়ি, পোলাও, আলুর দম, তরকারি, চাটনি, পায়েস সহ বিভিন্ন ভোগের সামগ্রী। ওই দিন বিশেষ নাচ-গানের আয়োজনও থাকছে বাজা কদমতলা ঘাটে।
কলকাতা পুরনিগমের এক আধিকারিক জানান, “এই বছর গতবারের তুলনায় বড় করেই দেব দীপাবলি অনুষ্ঠান হচ্ছে। প্রতিবার বাজি ফাটানো হলেও বায়ু দূষণ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা এবার কোনো বাজি ফাটাব না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”





