কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তোড়জোড় শুরু করেছে বিশেষ দল। একের পর এক রাজ্যে কর্মচারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক সেরে এবার দিল্লিতে চলছে হাইভোল্টেজ আলোচনা। আর এই আলোচনার মাঝেই খুশির খবর—কমিশন কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া পেশ করার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত করেছে। তবে এই সময়সীমা বৃদ্ধি কেবল আইনি প্রক্রিয়া নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে বেতন ও পেনশনে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত।
একলাফে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব: ন্যূনতম মূল বেতন কি ৬৯,০০০?
দিল্লিতে ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বৈঠকে কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিস্ফোরক সব দাবি পেশ করা হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ন্যূনতম মূল বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা হলেও, নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।
এই বেতন বৃদ্ধির জন্য ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের জোরালো দাবি তুলেছে এনসি-জেসিএম (NC-JCM)। সংগঠনের প্রতিনিধি শ্রী মিশ্র জানিয়েছেন, প্রায় ৩৬ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর স্বার্থে এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং ন্যূনতম মজুরি পরস্পর সংযুক্ত।
পুরনো পেনশন প্রকল্প (OPS) ও ভাতার অঙ্ক
বৈঠকের অন্যতম প্রধান ইস্যু হলো পুরনো পেনশন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার। কয়েক কোটি পেনশনভোগী এবং বর্তমান কর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরে ওপিএস-এর দাবি জানিয়ে আসছেন। এর পাশাপাশি ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বড় দাবি উঠেছে:
বাড়ি ভাড়া (HRA) ও ভ্রমণ ভাতা: বর্তমানের তুলনায় অন্তত ৩ গুণ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ৩% থেকে বাড়িয়ে ৬% করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পদোন্নতি: আগের পদোন্নতির সুবিধাগুলো পুনরায় বহাল করার কথা বলা হয়েছে।
সেকেলে পদ্ধতি বদলে আধুনিক জীবনযাত্রার মাপকাঠি
এবারের বৈঠকে বেতন গণনার পুরনো পদ্ধতি নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলা হয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, আগে বেতন নির্ধারণের সময় পরিবারে পুরুষের মান ১ এবং মহিলাদের ০.৮ ধরা হতো, যা চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক। এবার সেই লিঙ্গভেদ মুছে সন্তানদের পাশাপাশি বাবা-মাকেও পারিবারিক এককের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে।
শুধু তাই নয়, আইসিএমআর-এর নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাদ্যতালিকা, মোবাইল ডেটা খরচ এবং আধুনিক পোশাকের মতো বিষয়গুলোকেও এবার বেতন কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আগামী দিনে কী হতে চলেছে?
৩১ মে পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর ফলে আরও বেশি সংখ্যক কর্মচারী সংগঠন তাঁদের বিস্তারিত তথ্য কমিশনের কাছে জমা দিতে পারবেন। এই সব দাবি পর্যালোচনার পর কমিশন একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করবে, যা নির্ধারণ করবে আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান এবং পকেটের ভার। যদি এই দাবিগুলোর অর্ধেকেরও বেশি মেনে নেওয়া হয়, তবে ভারতের সরকারি চাকরির ইতিহাসে এটিই হবে সবচেয়ে বড় বেতন বিপ্লব।





