ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর বিয়ের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রেশ যখন গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে, ঠিক তখনই মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি জেলায় আরও এক নৃশংস খুনের ঘটনা সামনে এল। এবারেও বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনা আবারও দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতা এবং তার ভয়াবহ পরিণতির এক করুণ চিত্র তুলে ধরল।
দ্বিতীয় বিয়ে, তারপর মর্মান্তিক পরিণতি
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম অনিল লোখান্ডে (৫৩)। গত ১৫ দিন আগে ২৭ বছর বয়সী তরুণী রাধিকার সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছিল। অনিলের প্রথম স্ত্রী ক্যানসারে মারা যান। তবে, দ্বিতীয় বিয়ের পরই তার জীবনে নেমে আসে মর্মান্তিক পরিণতি।
পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই অনিল শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য জোরাজুরি করতেন, যা নিয়ে রাধিকা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। বয়সে দ্বিগুণ বড় অনিলের যৌনতার দাবিদাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত। এই অশান্তির জেরেই বিয়ের ঠিক ১৫ দিন পর রাধিকা রাগের মাথায় চরম পদক্ষেপ করেন।
ঘুমন্ত স্বামীকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা
বুধবার গভীর রাতে অনিল যখন রাধিকার পাশেই ঘুমিয়ে ছিলেন, সেই সময়েই রাধিকা ধারালো কুড়ুল দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী রাধিকাকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
ইন্দোরের ‘হানিমুন মার্ডার’ এবং সাঙ্গলির এই ঘটনা — দুটিই নববধূদের বিরুদ্ধে স্বামী হত্যার অভিযোগ, যা সমাজে সম্পর্কের জটিলতা এবং অপরাধের নতুন প্রবণতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। এমন ঘটনাগুলো পারিবারিক সম্পর্কের প্রতি আস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।