বিমান সংস্থা থেকে দীপাবলির প্রদীপ, সবখানে ব্রিকস! আন্তর্জাতিক তারকার কণ্ঠে থিম সং, অভিনব পরিকল্পনা মোদি সরকারের

আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের ব্রিকস (BRICS) সভাপতিত্বকাল। সিএনএন-নিউজ ১৮-এর হাতে আসা সরকারি নথি অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদি সরকার এই বছরব্যাপী সময়ে ভারতের একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সংস্কৃতিমণ্ডিত ভাবমূর্তি বিশ্বদরবারে তুলে ধরার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
আগের জি-২০ সভাপতিত্বের ধাঁচেই, এবারও লক্ষ্য— দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিল্পধারাকে প্রতিফলিত করে একটি সর্বভারতীয়, প্যান-ইন্ডিয়া ব্রিকস চিত্র উপস্থাপন করা।
৬০ শহরে বৈঠক ও থিম সং-এর চমক
নথি অনুযায়ী, ব্রিকস সভাপতিত্বকে কেন্দ্র করে ভারত জুড়ে প্রায় ৬০টি শহরে বিভিন্ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই শহরগুলি ২৮টি রাজ্য ও ৯টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। জি-২০-র মতো এবারও “জন-ভাগীদারি” বা জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে ১৪০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ব্রিকস থিম সং: ৩-৪ মিনিটের একটি বিশেষ থিম সং তৈরি হবে। এটি গাইবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কোনো ভারতীয় শিল্পী, যিনি বৈশ্বিক পুরস্কারপ্রাপ্ত বা আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফর্ম করেছেন।
ব্র্যান্ডিং ও জনসংযোগ অভিযান
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ব্রিকস ব্র্যান্ডিং ও জনসংযোগ অভিযানকে সফল করতে সরকার বেশ কিছু অভিনব অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে:
দীপাবলিতে আলোয় ব্রিকস: পরিবেশবান্ধব প্রদীপ (ইকো-দিয়া)-এর আলো দিয়ে দীপাবলিতে ব্রিকস লোগো প্রক্ষেপণ করা হবে।
বিশেষ অনুষ্ঠান: ব্রিকস-থিমযুক্ত ঘুড়ি উৎসব, দেশজুড়ে শহরগুলিতে হোলোগ্রাফিক ব্রিকস লোগো প্রদর্শন এবং প্রজাতন্ত্র দিবসে ব্রিকস ট্যাবলো তৈরি করা হবে।
গণপরিবহনে প্রচার: মেট্রো, রাজ্যবাস, রেল এবং বিমান সংস্থাগুলিতে (যেগুলিতে বিদেশি প্রতিনিধিরা যাতায়াত করবেন) ব্রিকস লোগো প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ: কেরলের নৌকাবাইচ উৎসব, ওডিশার আন্তর্জাতিক বালুকাশিল্প উৎসব এবং গোয়ার কার্নিভালের মতো বিভিন্ন রাজ্যের উৎসবেও ব্রিকস থিম তুলে ধরা হবে।
গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর জোরদার করা লক্ষ্য
বর্তমানে ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য সংখ্যা বেড়ে ১১টি হয়েছে (ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত)। এই সময়ে ভারত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর জোরদার করার ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে চায়। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জলবায়ু অর্থনীতি এবং ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা—এইগুলি ভারতের এজেন্ডায় গুরুত্ব পাবে।