বিমান থেকে থানায় রাতভর নাটক! শর্তে মুক্ত সিজেপি প্রধানরা, ফের যন্তর মন্তর কাঁপাতে কোন হুংকার?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগে উত্তাল রাজধানী। বিমান থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ না করার শর্তে জামিন পেলেও, সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—আন্দোলন থামছে না। মুক্তির পর এক্স হ্যান্ডলে হুংকার দিয়ে সংগঠনটি লিখেছে, “আরশোলা কখনও মরে না।” অন্যদিকে, গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও ভোররাতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার যন্তর মন্তরে সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় দিল্লি। বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর ২৫ হাজারের বেশি জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল। কনট প্লেস সহ একাধিক এলাকায় প্রায় ৩ হাজার মানুষকে আটক করা হয়। জনপথ ও কর্তব্যপথের চারপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএনএসএস (BNSS)-এর ১৭০ ও ১২৬ ধারা অনুযায়ী পুলিশ এই প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention) চালায়। এই ধারায় আমলযোগ্য অপরাধ রোধে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি বিচার বিভাগীয় অনুমোদন ছাড়া আটকে রাখা যায় না। সেই নিয়ম মেনেই থানায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর তাঁদের মুক্তি মেলে।

প্রশাসনের কড়া বাধা সত্ত্বেও পিছু হটতে নারাজ সিজেপি এবং ‘আইসা’। রবিবার ফের যন্তর মন্তরে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা। সরকারের তরফ থেকে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নিরাপত্তা জারি থাকলেও, জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক সংঘাত এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে।