ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম উধাও? জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা নিয়ে দিল্লি কাঁপাচ্ছে কারা?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এ প্রায় ১৩ কোটি ভোটার নাম ছাঁটাইয়ের গুরুতর অভিযোগে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। মহালয়ার পর থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন ঘিরে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিক্ষোভ বানচাল করতে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র তিন শীর্ষ মুখ—অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। তবে রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট দিল্লি পুলিশকে বড় ধাক্কা দিয়ে ওই তিন নেতাকেই শর্তসাপেক্ষে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে।

শনিবারের পরিকল্পিত বিক্ষোভ রুখতে গোটা দিল্লিকে কার্যত সেনার দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। ২০ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী, র‌্যাফ এবং বিশেষ ফোর্স নামানো হয় রাজপথে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণের পরেই বিমানে ঢুকে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর সহযোগীদের আটক করা হয়। অন্যদিকে, গুরুগ্রামের বাসভবন থেকে আটক হন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বৃন্দা কারাত, ঐশী ঘোষ, সৌরভ ভরদ্বাজদের মতো প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও আটক করে পুলিশ। দিনে ৩ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হলেও আন্দোলনের ঝাঁজ কমেনি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও শনিবার একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা স্তব্ধ করা নিয়ে তীব্র আইনি বিতর্ক ও আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার যন্তর মন্তর শুনসান থাকলেও ভারী পুলিশি প্রহরা বজায় রয়েছে। তবে সিজেপির স্পষ্ট হুংকার—ভোটার তালিকায় কারচুপির দায় স্বীকার ও সিইসি-র পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই লড়াই থামবে না।