বিভ্রান্তি চরমে! একই নাম, বাবার নাম, এমনকি EPIC নম্বরও এক! ফাঁস হলো বড় জালিয়াতি!

ভোটার তালিকায় এবার সামনে এল এক চরম বিভ্রান্তির ঘটনা, যা রীতিমতো নির্বাচন কমিশনের অন্দরেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। একই নাম, বাবার নাম এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়— একই এপিক (EPIC) নম্বর ধারণ করছেন দু’জন ভিন্ন ব্যক্তি! একজন বেহালা পূর্বের বাসিন্দা, অন্যজন সোনারপুর উত্তরের। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে একটি বৈধ EPIC নম্বর অন্যজনের নামে ইস্যু করা হয়েছে কি না।

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন দু’জন ব্যক্তি, দু’জনেরই নাম সুব্রত মিস্ত্রি, বাবার নাম রঞ্জিত মিস্ত্রি, এবং তাঁদের ভোটার পরিচয়পত্র নম্বরও একই

বৈশিষ্ট্যপ্রথম সুব্রত মিস্ত্রিদ্বিতীয় সুব্রত মিস্ত্রি
ঠিকানাবেহালা পূর্ব, বড়িশা পূর্ব পাড়াসোনারপুর উত্তর, মুকুন্দপুর দাসপাড়া
বয়স৪৩ বছর৩৬ বছর
পেশাসাহাপুর মথুরানাথ বিদ্যাপীঠের ক্লার্ককাঠের মিস্ত্রি
বাসিন্দা২০০২ সাল থেকে ভোটার২০১১-তে বাংলাদেশ থেকে আগত

🔍 কীভাবে ফাঁস হলো এই রহস্য?

 

সাহাপুর বিদ্যাপীঠের ক্লার্ক সুব্রত মিস্ত্রি (বেহালা পূর্বের ভোটার) সম্প্রতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের এনুমেরেশন ফর্ম হাতে পাননি। তিনি যখন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন জানা যায় যে, তাঁর EPIC নম্বরের ফর্মটি সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে চলে গিয়েছে।

কমিশনের ওয়েবসাইটে নিজের EPIC নম্বর দিয়ে সার্চ করে দেখেন, বিএলও-র কথাই সত্যি— ঠিকানা বদলে গিয়েছে সোনারপুর উত্তরের মুকুন্দপুর দাসপাড়ায়!

সোনারপুরের বিএলও সমীরণ রায় নিশ্চিত করেন, তিনি সেই ফর্মটি সোনারপুরের সুব্রত মিস্ত্রির স্ত্রী সেবিকা মিস্ত্রির হাতে তুলে দিয়েছেন। সমীরণের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় যাঁর ছবি রয়েছে, তাঁকেই তিনি ফর্ম দিয়েছেন।

🇧🇩 বাংলাদেশ সংযোগ ও জালিয়াতির প্রশ্ন

 

দ্বিতীয় সুব্রত মিস্ত্রির স্ত্রী সেবিকা মিস্ত্রি স্বীকার করেছেন, তাঁর স্বামী ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে এসে প্রথমে ক্যানিংয়ের তালডিহিতে এবং ২০১৭ সালে সেখানে ভোটার হন। পরে তাঁরা মুকুন্দপুরে চলে আসেন এবং সেখানকার ভোটার তালিকায় নাম তোলেন।

এই পরিস্থিতিতে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে:

  • কীভাবে একই EPIC নম্বর দু’জন ভিন্ন ব্যক্তির নামে ইস্যু হলো?

  • দ্বিতীয় সুব্রত মিস্ত্রির নাম যখন প্রথমবার ভোটার তালিকায় ওঠে, তখন কী নথি দেখানো হয়েছিল?

  • এই ঘটনার পিছনে কোনো জালিয়াতি চক্র কাজ করছে কি না?

চাকরিজীবী সুব্রত মিস্ত্রি হতাশ হয়ে ই-মেল মারফত নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানিয়েছেন এবং অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ করে দিয়েছেন।

🔴 কমিশন কী বলছে?

 

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, কীভাবে এমন বিভ্রান্তি হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিইও দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, “দ্বিতীয়জনের নাম এর আগে কী ভাবে উঠেছিল, তখন কী নথি দেখা হয়েছিল, এবং একই নম্বরের এপিক কী ভাবে ইস্যু হলো— সব কিছু নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে রিপোর্ট তলব করা হচ্ছে।”

এই ঘটনার পর রাজ্যের ভোটার তালিকায় আরও এমন ব্যতিক্রম বা জালিয়াতির ঘটনা লুকিয়ে আছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।