বোলপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দপল্লিতে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার নেপথ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে পরিবার ও এলাকাবাসী বোলপুর থানার পুলিশকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায়। উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ির বনেটে উঠে বিক্ষোভ করে এবং আটককৃতদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনার বিবরণ
মৃত যুবকের নাম রোহিত সাউ (২৩)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোহিতের বাড়ি বিবেকানন্দপল্লির ক্যানালপাড় এলাকায় এবং প্রতিবেশী এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে তার প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার সকালে, স্থানীয়রা পাড়ার একটি পুকুরপাড়ের মাচায় রোহিতের গলায় ফাঁস লাগানো দেহ বসা অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযোগ করেন যে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং রোহিতকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।
পুলিশের তৎপরতা ও বিক্ষোভ
খবর পেয়ে বোলপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। পরিবারের এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত দুই মহিলাসহ তিনজনকে আটক করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত এলাকাবাসী পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়ালের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স এলাকায় আসে।
উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাছ থেকে আটককৃতদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ কোনোমতে দুই মহিলাসহ তিনজনকে গাড়িতে তুলে নেয়। এরপরও বিক্ষোভ চলতে থাকে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ির সামনে এসে ব্যারিকেড তৈরি করে এবং গাড়ির বনেটে উঠে বিক্ষোভ দেখায়। একপর্যায়ে পুলিশকর্মীরা নিজেদের গাড়ি নিয়ে এলাকা থেকে দ্রুত সরে যান। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এবং পরে উত্তেজিত জনতা বোলপুর বাইপাস রোড বেশ কিছুক্ষণ অবরোধ করে।
মৃতের দিদি এসা বিবি এবং জামাইবাবুর দাদা চাঁদ শেখ দাবি করেন, “এটি আত্মহত্যা নয়, রোহিতকে ডেকে নিয়ে খুন করা হয়েছে। ওই মহিলা ও আমার ভাইয়ের ফোন পরীক্ষা করলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। ওইটুকু মাচায় সে নিজে থেকে ঝুলে পড়তে পারে না। ওকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”