বিধায়কের বাড়িতেও কমিশনের হানা! ২০০২ থেকে ভোটার হয়েও কেন ‘শুনানি’? তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

রাজ্যজুড়ে চলা ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ। খোদ শাসকদলের বিধায়কের পরিবারকে নির্বাচন কমিশনের তরফে শুনানির নোটিস পাঠানোয় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ২০০২ সাল থেকে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন বিধায়কের বৃদ্ধা মা ও ভাইকে শুনানিতে তলব করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ।
বিধায়কের অভিযোগ, এটি নিছকই কোনো যান্ত্রিক ভুল নয়, বরং বিজেপির সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। নবীনবাবুর দাবি, তাঁর মা নন্দরানি বাগ, ভাই বিপিন বাগ ও ভাইয়ের স্ত্রীর নাম খসড়া ভোটার তালিকায় স্পষ্টভাবে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি তৃণমূলের বিধায়ক বলেই বিজেপি কমিশনকে ব্যবহার করে আমার পরিবারকে হেনস্থা করছে। নোটিস পাওয়ার পর থেকে আমার বৃদ্ধা মা প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।” উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে এই আসনের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ। বাম আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁদের ভোটার হওয়ার নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও এই তলবকে ‘মানসিক নির্যাতন’ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
অন্যদিকে, কমিশনের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র পাল্ট দাবি করেছেন, বিধায়ক মিথ্যে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। তাঁর বক্তব্য, “নামের বানানে ভুল থাকলে যে কারো ক্ষেত্রেই এমন নোটিস আসতে পারে। বিজেপি ক্ষমতায় আসছে বুঝে উনি এখন বাঙালি আবেগকে কাজে লাগাতে চাইছেন।” বিজেপি নেতার দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর ভয়েই তৃণমূল এখন ছোটখাটো প্রশাসনিক বিষয়কে রাজনৈতিক ইস্যু বানাচ্ছে।
গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকার পর থেকেই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানি শুরু হয়েছে। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যাদের ম্যাপিং সম্পূর্ণ হয়নি বা তথ্যে অসংগতি রয়েছে, তাদেরই এই তলব। তবে বিধায়কের পরিবারের ক্ষেত্রে এই ঘটনা প্রশাসনিক তৎপরতা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, তা নিয়ে এখন তোলপাড় খণ্ডঘোষের রাজনীতি।