‘বিধায়কের এখন মাথা খারাপ হয়ে গেছে!’ প্রকাশ্যেই অখিল গিরিকে তীব্র আক্রমণ পদিমা ২ প্রধান সুশান্ত পাত্রের, তৃণমূলের অন্দরে মহাবিভাজন

সৈকত নগরী দীঘায় ফের একবার প্রকাশ্যে এল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অভ্যন্তরীণ কোন্দল। রামনগর ১ ব্লকের পদিমা ২ অঞ্চল তৃণমূলের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীতে দলের একাংশের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকায় শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। আর সেই অনুপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝেই বিধায়ক অখিল গিরিকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান সুশান্ত পাত্র।

❌ অখিল গিরির সভায় গরহাজির পঞ্চায়েত প্রধান
ওল্ড দিঘার রাজবাড়ী কমপ্লেক্সে এই বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি, কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দলের একাংশের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব এই সভায় অনুপস্থিত ছিলেন:

গরহাজির: পদিমা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুশান্ত পাত্র, উপ-প্রধান সুজিত কর, প্রায় ১০ জন বুথ সভাপতি এবং তৃণমূলের শাখা সংগঠনের একাধিক কর্মী ও সমর্থক।

দলের ব্লক নেতৃত্বের দাবি, এই কর্মসূচি দলের নির্দেশ মোতাবেক হয়েছে এবং সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু এই অনুপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরের বিভাজনকে ফের প্রকট করেছে।

🗣️ ‘মাথা খারাপ হয়ে গেছে’ – বিধায়ককে সরাসরি আক্রমণ
এই সাংগঠনিক কোন্দল নিয়ে বিধায়ক অখিল গিরি সাংবাদিকদের প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তাঁর নীরবতার মাঝেই বোমা ফাটালেন পদিমা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুশান্ত পাত্র।

সুশান্ত পাত্র স্পষ্ট ভাষায় বলেন:

“এই কর্মসূচি কে বা কারা করেছে আমি জানি না। আমাকে কেউই ডাকে নি। বিধায়কের এখন বয়স হয়েছে, তাই মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সেইজন্যই উল্টোপাল্টা মন্তব্য করছে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রকাশ্যে এমন ভাষায় বিধায়ককে আক্রমণ করা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং এতে তৃণমূলের অন্দরের বিভাজন আরও প্রকট হলো।

🔪 দীর্ঘদিন ধরেই চলছে চাপানউতোর
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই রামনগর ১ ব্লক তৃণমূলের অন্দরে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে চাপা চাপানউতোর চলছে। একদিকে বিধায়ক অখিল গিরির ঘনিষ্ঠ নেতৃত্বরা, অন্যদিকে পঞ্চায়েত প্রধান সুশান্ত পাত্রের অনুগামীরা। এই বিজয়া সম্মিলনী মঞ্চে অনুপস্থিতি সেই দ্বন্দ্বকেই ফের সামনে নিয়ে এসেছে।

দলের উচ্চ নেতৃত্ব এই বিষয়ে এখনও চুপ থাকলেও, তৃণমূলের ঘরোয়া সূত্রের খবর—শীঘ্রই এই বিষয়ে জেলার পর্যবেক্ষক রিপোর্ট চেয়ে পাঠাতে পারেন রাজ্য নেতৃত্ব।