‘বিধায়ককে মেরে টাঙিয়ে দেব!’ তৃণমূল বিধায়ককে প্রকাশ্যেই হুমকি পঞ্চায়েত সদস্যের

বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে ‘মেরে ঝুলিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন তারই দলের এক পঞ্চায়েত সদস্য। সরাইটিকর পঞ্চায়েত সদস্য শেখ সেলিম ওরফে শেখ নয়ন বুধবার সন্ধ্যায় বিধায়কের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে মিছিলও বের করেন। এই ঘটনায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও একবার প্রকাশ্যে চলে এল।

শেখ নয়নের নেতৃত্বে বের হওয়া মিছিল থেকে ‘খোকন দাসের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগান শোনা যায়। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের সামনে শেখ নয়ন সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, “খোকন দাস বর্ধমান উত্তরের খাগড়াগড়, কেষ্টপুর, দিঘির পাড় এলাকায় ঢুকলে মেরে ওঁর হাত-পা ভেঙে টাঙিয়ে দেবো। উনি টাকা নিয়ে এখানে অশান্তি করাচ্ছেন।” তিনি বিধায়ককে সাহস থাকলে তাদের এলাকায় ঢুকে দেখানোর চ্যালেঞ্জও জানান।

জানা গেছে, এই বিবাদের মূল কারণ সরাইটিকর গ্রামের শেখ মৈনুদ্দিনের বাড়ি সংক্রান্ত একটি পুরোনো জমি বিবাদ। এ নিয়ে বর্ধমান আদালতে মামলাও চলছে। গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিধায়কের ঘনিষ্ঠ মহম্মদ আজিবুদ্দিন ওরফে লালু-সহ কয়েকজন মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৈনুদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘরের জিনিসপত্র লুট করে তারা মৈনুদ্দিনের মাকে গাড়ির পিছনে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় শেখ নয়ন ও তার সঙ্গীরা গাড়িটি আটকান। শেখ নয়নের অভিযোগ, “বিধায়ক খোকন দাস পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি চালাচ্ছেন। আমি ব্লক সভাপতি-সহ সবাইকে জানিয়েছি, কিন্তু কেউ ব্যবস্থা নেননি।”

এই অভিযোগের বিষয়ে বর্ধমানের বিধায়ক খোকন দাস সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, যা বলার তিনি দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছেন এবং দল এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘দলীয় শৃঙ্খলার লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দলের নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জানানো উচিত। এ ভাবে প্রকাশ্যে দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে কেউ মন্তব্য করতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই ঘটনায় বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।