বিধানসভা ভোটের আগেই বিরাট অ্যাকশন! কাঁথি পৌরসভা কি ভাঙতে চলেছে ফিরহাদ হাকিমের দপ্তর?

বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর তার আগেই পূর্ব মেদিনীপুরে বড়সড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প! বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি পৌরসভার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কড়া পদক্ষেপ নিল নবান্ন। সরাসরি শোকজ করা হলো তৃণমূল পরিচালিত এই পৌরবোর্ডকে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ? বেশ কিছুদিন ধরেই কাঁথি শহরবাসীর ক্ষোভ তুঙ্গে ছিল। নর্দমার পচা গন্ধ, অন্ধকারে ডুবে থাকা রাস্তাঘাট এবং তার ওপর লাগামহীন হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহকর— এই তিনে মিলে নাভিশ্বাস উঠেছিল বাসিন্দাদের। অভিযোগ জানাতে গেলে পৌরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরির কাছে অপমানিত হতে হয়েছে বলেও সাধারণ মানুষের দাবি। শহরবাসীর গণস্বাক্ষর সম্বলিত এই অভিযোগের পাহাড় জমা হতেই নড়েচড়ে বসে ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বাধীন পৌর ও নগর উন্নয়ন দফতর।
সাত দিনের সময়সীমা, কী বলছে নোটিশ? মঙ্গলবার পাঠানো শোকজ নোটিশে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত জল পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ— সব ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে বর্তমান বোর্ড অফ কাউন্সিলর্সের বিরুদ্ধে। রাজ্য সরকার জানতে চেয়েছে: “কেন এই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না?” আগামী ৭ দিনের মধ্যে সদুত্তর না মিললে আইন অনুযায়ী বড় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
শুভেন্দুর গড়ে রাজনৈতিক তরজা: এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।
তৃণমূলের অবস্থান: তৃণমূলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান তরুণ মাইতি জানান, “চেয়ারম্যান নিশ্চয়ই উত্তর দেবেন। আশা করি রাজ্য তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট হবে। তবে বিরোধীরা কী বলছে তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।”
বিজেপির আক্রমণ: বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি অসীম মিশ্রর দাবি, “ভোট লুঠ করে জেতা এই বোর্ড পরিষেবা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। কাটমানি ঠিকমতো পৌঁছয়নি বলেই হয়তো এবার প্রশাসক বসানোর তোড়জোড় করছে রাজ্য।” তিনি কাঁথি পৌরসভায় অবিলম্বে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
আগামী দিনগুলোতে কী হবে? কাঁথি পৌরসভা কি আদৌ এই শোকজের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারবে? নাকি নির্বাচনের আগেই সরকার নিজের দলের পরিচালিত এই বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসাবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা জেলা।