বিধানসভায় মেঝেতে বসে বিক্ষোভ সতীর্থদের, দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আড্ডায় ঋতব্রত?

একদিকে যখন বিধানসভায় ঘর না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মেঝেতে বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তৃণমূলের বিধায়করা, অন্যদিকে সেই অস্থিরতার মাঝেই দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা গেল উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা ছড়িয়েছে। দলের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ক্ষোভ উগরে দেওয়া ঋতব্রতর এই সাক্ষাৎ নিয়ে কি কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে আছে? মুখ খুললেন বিধায়ক নিজেই।

ঠিক কী ঘটেছিল দিল্লিতে? bangla.aajtak.in-কে ঋতব্রত জানিয়েছেন, সাংসদ হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ায় সরকারি বাসভবন হস্তান্তর, আইডি কার্ড বদল এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মতো প্রশাসনিক কাজেই তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন। দুপুরের দিকে বঙ্গভবনে খাওয়ার সময় হঠাৎই তাঁর মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ঋতব্রতর কথায়, “আমি যখন বেরোচ্ছি, মুখ্যমন্ত্রী ঢুকছিলেন। তিনি নিজেই আমায় ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘MLA সাহেব কি বঙ্গভবনে?’ বিধায়ক হিসেবে শিষ্টাচার মেনেই আমি নমস্কার বিনিময় করি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের একজন বিধায়কের যেটুকু সৌজন্যমূলক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই হয়েছে।”

‘ভদ্রতা ও রাজনীতি আলাদা’ বিধানসভায় তাঁর সতীর্থরা যখন বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তখন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন এড়িয়ে যাননি ঋতব্রত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিধানসভায় আমাদের বসার জায়গা দেওয়া হয়নি, এটা সংসদীয় গণতন্ত্রে ঠিক নয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যদি আমাকে দেখে ডেকে কথা বলেন, আমি কি মুখ ঘুরিয়ে চলে যাব? উনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, এটা একটা সাংবিধানিক পদ, কোনো ব্যক্তি নয়। আমি বেসিক ভদ্রতাটুকু বজায় রেখেছি।”

রাজনীতির অন্দরে জল্পনা: সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে চর্চায় ছিলেন ঋতব্রত। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফরে, হাইভোল্টেজ সব মিটিংয়ের মাঝেই এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন বিরোধী বিধায়কদের অভিযোগ ও বিক্ষোভের আবহ চলছে, তখন ঋতব্রতর এই ‘ভদ্রতার রাজনীতি’ কি কেবলই কাকতালীয়, নাকি অন্য কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত— তা নিয়েই এখন রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে জল্পনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy