বিদ্রোহের আগুনে উত্তাল তৃণমূল! সায়নী-মালাদের দলবদলে বাবুল সুপ্রিয়র মুখে ‘সাপের’ উপমা?

লোকসভা থেকে রাজ্যসভা—তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন যেন এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতাদের দলবদল এবং রাজ্যসভায় প্রকাশ চিক বরাইকের ইস্তফায় কার্যত কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির। এই ঐতিহাসিক ভাঙন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র অবস্থান নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে বাবুল সুপ্রিয় স্পষ্ট ভাষায় বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অধিকার সবারই আছে, আমিও একসময় তা করেছি। তবে সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে গেলে সাংসদ বা বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত। কারণ, আপনি দলের প্রতীক ও নেতৃত্বের ব্যানারে ভোট জিতেছিলেন।” দলবদলুদের নৈতিকতার পাঠ দিতে গিয়ে তিনি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, দলেরই এক ‘বিশেষ’ নেতাকে নিশানা করে বাবুলের তীব্র ক্ষোভ। তিনি লিখেছেন, “একজন ব্যক্তি আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছেন! আমি জানতাম না যে মানুষের ছদ্মবেশে একটা আস্ত সাপ আমাদের সবার মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।” এমনকি বিজেপিকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি লেখেন, “আশা করব বিজেপি অন্যান্য রাজ্যের মতো এদেরকেও নিজেদের দলে নেওয়ার ভুল করবে না।”

বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে নিজেকে দলের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে দাবি করেছেন বাবুল। তবে বাংলার পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তিনি এক ভিন্ন সুরও শুনিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কো-অপারেট করেই তিনি উন্নয়নের কাজ করবেন। তাঁর কথায়, “আমার লক্ষ্য থাকবে এম্পিল্যাড (MPLAD)-এর টাকা যেন সাধারণ মানুষের ঠিকঠাক কাজে লাগে।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ জুন একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি বিদ্রোহীদের ‘চটি চাটা’ বলে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন। বালিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়কের মতে, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর যারা দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কাজে যুক্ত ছিল, তাদের লাগাম না টানা ছিল দিদির বড় ভুল। আর আজ সেই সুযোগসন্ধানীরাই ক্ষমতার লোভে দল ভাঙছে।

২০১৪ সালে গেরুয়া শিবিরের টিকিটে আসানসোলের দুবারের সাংসদ হওয়ার পর পরবর্তীতে ‘প্লেয়িং ইলেভেনে’ খেলার তাগিদে তৃণমূলে যোগ দেন বাবুল। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া বাবুলের এই ফেসবুক বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করল। একদিকে বিদ্রোহীদের প্রতি চরম বিদ্বেষ, অন্যদিকে উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক সমন্বয়ের ডাক—বাবুল সুপ্রিয়ের এই দ্বিমুখী বার্তা এখন চর্চার কেন্দ্রে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy