বাংলার রাজনৈতিক মহলে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা দীর্ঘদিনের অন্তর্দ্বন্দ্ব যে এখন চরম পর্যায়ে, তা স্পষ্ট হয়ে গেল বিদ্রোহী সাংসদদের সই করা চিঠিতে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দপ্তরে জমা পড়া এই চিঠিকে ঘিরে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।
বিদ্রোহী তালিকায় চমক: দেবের স্বাক্ষর ঘিরে বিতর্ক
প্রকাশিত চিঠি অনুযায়ী, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন দলের ১৯ জন সাংসদ। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী শিবিরে রয়েছেন শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, এবং জুন মালিয়ার মতো হাই প্রোফাইল নেতারা।
তবে এই তালিকার সবচেয়ে বড় ‘টুইস্ট’ হলো ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)-এর স্বাক্ষর। দিনকয়েক আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে দেব দাবি করেছিলেন, তিনি দলের সঙ্গেই আছেন। অথচ এখন বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকায় তাঁর নাম দেখে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি সত্যিই অবস্থান বদলালেন দেব? যদিও এই চিঠির সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
দুই-তৃতীয়াংশের ম্যাজিক নম্বর: কী দাবি বিদ্রোহীদের?
দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফাঁক গলে নিজেদের আলাদা অস্তিত্ব প্রমাণ করতে লোকসভায় মোট সাংসদ সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। তৃণমূলের অন্দরের খবর, সেই ‘ম্যাজিক নম্বর’ ইতিমধ্যেই ছুঁয়ে ফেলেছেন বিদ্রোহীরা।
চিঠিতে বিদ্রোহীদের মূল দাবিগুলো হলো:
পৃথক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি: লোকসভার স্পিকারের কাছে তারা তৃণমূলের থেকে আলাদা সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছেন।
এনডিএ-র দিকে ঝোঁক: কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, তাঁরা জনমতের সম্মান জানিয়ে এনডিএ-র সঙ্গে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করতে আগ্রহী।
মুখ্য সচেতক দাবি: কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজেকে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক দাবি করে এই পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ভাঙনের মুখে বাংলার শাসকদল
গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২৯টি আসন পেলেও বসিরহাটের সাংসদ হাজি নুরুল ইসলামের প্রয়াণে সংখ্যা কমেছিল। এবার ১৯ জন সাংসদ পৃথক ব্লকের দাবি জানানোয়, লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। শুধু তাই নয়, যারা এই ১৯ জনের তালিকায় নেই, তাদের অনেকের সুরও এখন ‘বেসুরো’। ফলে ভবিষ্যতে এই বিদ্রোহী শিবিরের পাল্লা আরও ভারী হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে এই সাংসদরা সত্যিই এনডিএ-র নৌকায় সওয়ার হচ্ছেন কি না, সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা বাংলা।
সম্পাদকীয় নোট: এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সূত্র ও প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া চিঠির সত্যতা এবং সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর আমাদের নজর থাকবে।





