বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, পরমাণু শক্তিকে অন্য কাজে লাগানোর সময় এসেছে! সরকারের উদ্দেশ্যে বড় বার্তা টাটার

দেশের পারমাণবিক শক্তি খাতের উন্নয়নে এবার বড়সড় পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করল টাটা কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স (Tata Consulting Engineers)। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই সংস্থার শীর্ষকর্তা অমিত শর্মার মতে, পারমাণবিক শক্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রে এবার সরকারের পরমাণু শক্তি বিভাগকে (DAE) কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলির দিকে বেশি নজর দিতে হবে এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এই ক্ষেত্রে আরও বড় ভূমিকা পালনের সুযোগ করে দিতে হবে।

ইসরোর আদলে বেসরকারি অংশগ্রহণ:
মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বা ‘ইসরো’ যেভাবে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে দেশের গতিপথ দ্রুত বদলে দিয়েছে, পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রেও ঠিক সেই একই মডেল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে টাটা। তাদের মতে, ডিএই-এর মূল লক্ষ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হওয়া উচিত নয়, বরং তাদের মূল কাজ হওয়া উচিত কৌশলগত নীতি নির্ধারণ। পারমাণবিক শক্তির উৎপাদন ও গবেষণার কাজ সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি সংস্থার হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। এমনকি মুম্বইয়ের ভাবা পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র (BARC)-এর মতো ল্যাবগুলিও যাতে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে তাদের নতুন আইডিয়া বা কনসেপ্ট পরীক্ষার কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেয়, সেই প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইন ও ব্যবসার সুযোগ:
সম্প্রতি ‘শান্তি অ্যাক্ট’ (SHANTI Act) পাশ হওয়ার পর পারমাণবিক বিজ্ঞান গবেষণায় বেসরকারি সংস্থার প্রবেশের রাস্তা আরও প্রশস্ত হয়েছে এবং দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত জটিলতাও অনেকটাই দূর হয়েছে। এর ফলে টাটা কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স সহ দেশের রিলায়েন্স, জেএসডব্লিউ-এর মতো বড় বড় শিল্প গোষ্ঠীগুলি এই ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে। বর্তমানে টাটার মোট আয়ের প্রায় ২ শতাংশ পারমাণবিক শক্তি খাত থেকে এলেও, ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে তা ৫ থেকে ৬ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী দিনে বড় পারমাণবিক প্ল্যান্টের পাশাপাশি কম মেগাওয়াটের ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর তৈরিতেও শিল্প মহলের আগ্রহ বাড়ছে, যা দেশের শক্তি উৎপাদনে নতুন বিপ্লব আনতে চলেছে।