বনরক্ষা করেই ভাগ্যের চাকা ঘোরালেন মহিলারা! ‘মন কি বাত’-এ ওড়িশার ময়থিলিকে নিয়ে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের অনুপ্রেরণামূলক সাফল্যের গল্প তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জঙ্গল সংরক্ষণ থেকে শুরু করে শখের ফুল চাষ কিংবা নতুন ফসলের চাষ করে কীভাবে সাধারণ মানুষ নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন, তার সুনির্দিষ্ট কিছু উদাহরণ এদিন তুলে ধরেন তিনি।

ওড়িশার ডেবরিগড়ের নারীদের দৃষ্টান্ত:
ওড়িশার ডেবরিগড় অঞ্চলের ধোড্রোকুसुम গ্রামের ময়থিলি ভুয়ে-র উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, একসময় জ্বালানি কাঠ বা বনের পাতা সংগ্রহ করাই ছিল তাঁর পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। তবে ‘ডেবরিগড় ইকো-ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তাঁর জীবনধারায় বড় পরিবর্তন আসে। জঙ্গল রক্ষা করাকেই তিনি নিজের জীবিকা হিসেবে বেছে নেন এবং তাঁর দেখাদেখি আজ ৬০ জনেরও বেশি নারী বন্যপ্রাণী সুরক্ষা থেকে শুরু করে ইকো-ট্যুরিজমের মতো নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখেও যে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, তা প্রমাণ করেছেন এই নারীরা।

ফুল চাষে সফল নাগাল্যান্ডের ভেসালু:
নাগাল্যান্ডের ফেক জেলার ভেসালু পুরোর সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই ফুলের প্রতি ভালোবাসা ছিল তাঁর। কৃষিজীবী পরিবারের সন্তান ভেসালু ২০২১ সালে শখের বশেই ছোট পরিসরে ফুল চাষ শুরু করেন। পরে স্থানীয় কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাত্র এক চর্তুর্থাংশ জমিতে হাজার হাজার গ্ল্যাডিওলাস চাষ করে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। বর্তমানে নাগাল্যান্ডের সেই ফুল রাজধানী দিল্লি এবং মুম্বইয়ের বাজারেও সমাদৃত হচ্ছে।

আভোকাডো চাষে কৃষকদের বিপ্লব:
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের ডায়েটে আভোকাডোর কদর বাড়ার ফলে ভারতীয় কৃষকরাও যে দারুণ লাভবান হচ্ছেন, সে কথাও এ দিন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। অন্ধ্রপ্রদেশের কাদাপ্পার বরদরাজ, তামিলনাড়ুর কোদাইকানালের চন্দ্রশেখরন কিংবা কর্ণাটকের চিকমাগালুরের বহু চাষি ঐতিহ্যবাহী চাষের পাশাপাশি আভোকাডো চাষ করে তাঁদের আয় বহু গুণে বাড়িয়ে নিয়েছেন। নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং সঠিক বিপণনের হাত ধরে দেশের কৃষকদের এই উদ্ভাবনী মানসিকতাই গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে বলে মত প্রকাশ করেন নরেন্দ্র মোদি।