বিদেশ যাত্রায় বড় ধাক্কা! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসার আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট!

চোখের সুচিকিৎসার জন্য সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাত্রার আর্জি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর চোখের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি সংক্রান্ত আবেদনটি সম্পূর্ণ বাতিল করেন। আদালতের এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর রায়ের পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, আদালত কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয়। সেই কারণে এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের চক্ষুবিভাগের প্রধানের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে তাদের কাছে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের মূল উদ্দেশ্য ছিল, প্রকৃতপক্ষেই তাঁর বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর কোনো জরুরি প্রয়োজন রয়েছে, নাকি দেশের মধ্যেই এই চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা সম্ভব, তা চিকিৎসকদের বৈজ্ঞানিক মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা। কারণ এই আইনি প্রক্রিয়ার মাঝে রোগীর সুচিকিৎসাই হলো সবথেকে প্রধান এবং সর্বাগ্রে বিবেচ্য বিষয়।

অন্যদিকে, শুনানিকালে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতের সামনে জোরালো সওয়াল করে জানান যে, তাঁর মক্কেলের চোখের পূর্বের সমস্ত চিকিৎসা প্রক্রিয়া আগে থেকেই যেহেতু বিদেশেই সম্পন্ন হয়ে আসছে, তাই তিনি এই মুহূর্তেও অন্য কোথাও না গিয়ে বিদেশেই গিয়ে চিকিৎসা করাতে ইচ্ছুক। তবে উল্লেখ্য যে, এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি ও তদন্তকারী সংস্থার একাধিক মামলাও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। যদিও এর আগে আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দিষ্ট কিছু আইনি সুরক্ষাকবচ প্রদান করেছে।

আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে যে, বর্তমানে হাইকোর্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং সেই সমস্ত মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াও সমান্তরালভাবে চলছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে থেকে এসএসকেএম হাসপাতালের নির্ধারিত মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে উপস্থিত হতে ইচ্ছুক নন। তিনি যদি সময়মতো ওই বোর্ডে হাজিরা দিতেন, তবে চিকিৎসকদের দেওয়া বিশেষজ্ঞ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আদালত খুব সহজেই একটি সঠিক ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারত। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করায় আদালত তাঁর বিদেশ যাত্রার এই আবেদনটি খারিজ করতে বাধ্য হয়েছে।