বিদেশে আম পাঠানোয় বড় ধাক্কা! লোহিত সাগরে অস্থিরতায় কন্টেনার সঙ্কট, বহুমূল্য আম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে ভারতের কৃষি অর্থনীতিতে। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলোতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার সবথেকে বড় শিকার হতে চলেছে ভারতীয় আম। বিশ্বের মোট আম উৎপাদনের ৪৪ শতাংশ যোগান দেওয়া ভারতের কাছে এই রপ্তানি ধাক্কা এক বড় বিপর্যয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন বিপাকে আম রপ্তানি? ভারত থেকে বছরে প্রায় ২০৬.৮ লক্ষ টন আম উৎপাদিত হয়। এর একটি বিশাল অংশ যায় মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপে। কিন্তু বর্তমানে দুটি প্রধান বাধা দাঁড়িয়েছে রপ্তানিকারকদের সামনে:

  • পথ পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধি: লোহিত সাগর এবং স্ট্রেট অব হরমুজ়ে উত্তেজনার কারণে জাহাজগুলিকে দীর্ঘ বিকল্প পথ ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেছে। মার্চ মাসেই একটি কন্টেনারের ভাড়া ১,০০০ ডলার বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪,০০০ ডলারের লেভি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ খরচ বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ!

  • রেফার কন্টেনার সঙ্কট: আমের মতো দ্রুত পচনশীল ফল পাঠানোর জন্য বিশেষ রেফ্রিজারেটেড কন্টেনার বা ‘রেফার’-এর প্রয়োজন হয়। যুদ্ধের কারণে এই কন্টেনারগুলোর আকাল দেখা দিয়েছে। সময়মতো কন্টেনার না পাওয়ায় আমের গুণমান নষ্ট হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিপদে আলফান্সো ও কেসর: সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির আলফান্সো, কেসর এবং বাঙ্গানাপল্লি। এই আমগুলো মূলত বিদেশের বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়। কিন্তু পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং কন্টেনার পেতে দেরি হওয়ায় ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের পক্ষে ব্যবসা চালানো প্রায় অলাভজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব: যদি সময়মতো আম বিদেশে পাঠানো না যায়, তবে দেশের বাজারে জোগান অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ফলে চাষিরা নায্য দাম পাবেন না। ফলে উৎপাদন খরচ তোলাও অনেকের পক্ষে কঠিন হবে।

পশ্চিম এশিয়ার এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দ্রুত না কমলে, এ বছর আমের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বিশ্ববাসী, আর পকেটে টান পড়বে ভারতীয় কৃষকদের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy