বিদেশের ওপর ভরসা নয়! ডেটা সুরক্ষায় নতুন আইন, রাজ্য সরকারের ভর্তুকিতেই ভারত হতে চলেছে বিশ্বের ‘ডেটা হাব’

দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় এক অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এলো। সাশ্রয়ী ডেটা সেন্টার (Data Center) নির্মাণের ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বজুড়ে প্রথমসারিতে উঠে এসেছে। কোটাক মিউচুয়াল ফান্ডের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ডেটা সেন্টার স্থাপনের খরচ অন্যান্য বড় দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম! আর এই কারণেই বিদেশি কোম্পানিগুলি এখন ভারতের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং দেশের ডিজিটাল শক্তি নতুন গতি পাচ্ছে।

বিশ্বের সবথেকে সস্তার ডেটা হাবের পথে ভারত
রিপোর্ট অনুসারে, ভারতে ১ ওয়াটের একটি ডেটা সেন্টার তৈরি করতে খরচ হয় মাত্র ৭ ডলার (প্রায় ₹৫৭৫)। এই খরচ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।

দেশ প্রতি ওয়াট ডেটা সেন্টারের দাম
ভারত $৭
চীন $৬
আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া $১০
ব্রিটেন $১১
জাপান $১৪

Export to Sheets
বর্তমানে চীনের খরচ সামান্য কম হলেও, জাপান, ব্রিটেন বা আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলির তুলনায় ভারতের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে চীনকেও এক্ষেত্রে টেক্কা দিতে পারে ভারত।

কেন ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে?
ডেটা সেন্টার হলো এমন জায়গা, যেখানে বিপুল পরিমাণে ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ ও প্রসেস করা হয়। ভারতে ডেটা স্টোরেজের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছে।

বৃদ্ধি: ২০১৯ সালে ভারতে মাত্র ৫টি বৃহৎ হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার ছিল, যা ২০২৪ সালের মধ্যে ৩ গুণ বেড়ে ১৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

কোলোকেশন স্পেস: ডেটা সংরক্ষণের জন্য বড় কোম্পানিগুলিকে ভাড়া দেওয়া ‘কোলোকেশন স্পেস’-এও গত ৫ বছরে ৪ গুণ বৃদ্ধি দেখা গেছে।

ইন্টারনেট, অ্যাপস, অনলাইন পরিষেবা এবং ডিজিটাল পেমেন্টের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণেই এই চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

সরকারি ভর্তুকি ও আইনের সুবিধা
কম খরচ ছাড়াও, ডেটা সেন্টার নির্মাণে রাজ্য সরকারগুলির সহায়তা এবং কঠোর আইন ভারতকে এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দিচ্ছে।

১. রাজ্য সরকারের ভর্তুকি:

তামিলনাড়ু: বিদ্যুতের ওপর ১০০ শতাংশ ভর্তুকি এবং হুইলিং চার্জে ৫০ শতাংশ মকুব।

মহারাষ্ট্র: আজীবন বিদ্যুৎ ছাড় এবং ৫ বছরের জন্য প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ভর্তুকি।

উত্তরপ্রদেশ: ওপেন অ্যাক্সেস বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন চার্জ সম্পূর্ণ মকুব।

তেলেঙ্গানা: ২০১৬ সাল থেকেই রিনিউয়েবল এনার্জি সরবরাহ।

২. কঠোর আইন:

RBI নির্দেশ (২০১৮): পেমেন্ট কোম্পানিগুলিকে শুধুমাত্র ভারতে ভারতীয় তথ্য রাখতে হবে।

DPDP আইন ২০২৩: প্রয়োজন হলে সরকার নির্দেশ দিতে পারে যে ভারতের তথ্য দেশের বাইরে পাঠানো উচিত নয়।

এই আইনগুলি কোম্পানিগুলিকে বাধ্য করছে ভারতে তাদের ডেটা সেন্টার তৈরি করতে, যা এই শিল্পের সম্প্রসারণকে আরও গতিশীল করেছে।

ভবিষ্যতের ‘ডেটা হাব’ ভারত
বর্তমানে বিশ্বের মোট ডেটা ব্যবহারের ২০ শতাংশেরও বেশি ভারত ব্যবহার করে, কিন্তু বৈশ্বিক ডেটা সেন্টারের মাত্র ৩ শতাংশ ভারতে অবস্থিত। এর অর্থ হলো, এখনও পর্যন্ত দেশের বেশিরভাগ তথ্য বিদেশে সংরক্ষিত হচ্ছে।

তবে, কম খরচ, রাজ্যগুলির বিপুল ভর্তুকি এবং ডেটা সুরক্ষার নতুন আইনের কারণে এই পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে চলেছে। ভারত দ্রুত বিশ্বের পরবর্তী “ডেটা হাব” হয়ে ওঠার দিকে এগিয়ে চলেছে।