উৎসবের মেজাজ নিমেষেই বদলে গেল রণক্ষেত্রে। দলের মনোনীত প্রার্থী ও নেতাদের সংবর্ধনা দিতে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ অনুষ্ঠানের। কিন্তু সেই ভরা সভাতেই ঘটল এক নজিরবিহীন ও হাড়হিম করা ঘটনা। এক বিজেপি নেতার কলার ধরে চড়-থাপ্পড় থেকে শুরু করে জুতোপেটা— জনসমক্ষেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন এক মহিলা। উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলা বিজেপি কার্যালয়ের এই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই সভায়?
বুধবার মহারাজগঞ্জ বিজেপি কার্যালয়ে তখন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছে। মঞ্চে উপস্থিত হেভিওয়েট নেতারা। ঠিক সেই সময় আচমকাই অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়েন এক মহিলা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢুকেই তিনি ভাঙচুর শুরু করেন। এরপর সোজা এক বিজেপি কর্মীর দিকে তেড়ে গিয়ে তাঁর কলার চেপে ধরেন এবং একের পর এক চড় মারতে থাকেন।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, উপস্থিত অন্যান্য বিজেপি কর্মীরা ওই মহিলাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। রাগের মাথায় ওই বিজেপি নেতাকে জুতোপেটাও করেন তিনি।
কেন এই চরম পদক্ষেপ?
হামলাকারী মহিলার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর দাবি:
আর্থিক প্রতারণা: এলআইসি (LIC)-তে পলিসি করার জন্য ওই বিজেপি নেতাকে তিনি সাড়ে চার লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন।
টাকা তছরুপ: ওই নেতা টাকাটি এলআইসি-তে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে নয়ছয় করেছেন।
হয়রানি: দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত চাইলেও ওই নেতা তাঁকে ঘোরানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সহ্যর সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তিনি প্রকাশ্য জনসভাকেই প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেন।
পুলিশি হস্তক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার জেরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। উত্তেজিত ওই মহিলাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ। যদিও প্রকাশ্যে এক নেতার এভাবে মার খাওয়ার ঘটনায় মহারাজগঞ্জ এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বর্তমানে পুলিশ ওই মহিলার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।