লোকসভা ভোটের আঁচ মিটলেও বীরভূমের নানুরে রাজনৈতিক অশান্তি থামার লক্ষণ নেই। এক বিজেপি কর্মী তথা পেশায় শিক্ষককে জোর করে দল ও আরএসএস (RSS) ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রণক্ষেত্র নানুর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করা হয়নি) ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্ত কর্মীর পাশে দাঁড়াতে এবার সরাসরি নানুরে যাচ্ছে বিজেপির আইনজীবীদের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল।
ঠিক কী ঘটেছিল? অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ জানুয়ারি সকালে শিক্ষক রিন্টু পাল এবং চিরঞ্জিৎ চট্টোপাধ্যায় স্কুলে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁদের পথ আটকায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে। রিন্টু পালকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় তৃণমূলের একটি কার্যালয়ে। সেখানে সইদ আমিন আলি, শেখ শরাফত হোসেন এবং আলাউদ্দিন শেখের উপস্থিতিতে তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন গ্রামবাসী তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করে এবং ক্যামেরার সামনে জোর করে বলানো হয় যে, তিনি বিজেপি ও আরএসএসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছেন।
বিজেপির পাল্টা পদক্ষেপ: এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি। দলের লিগ্যাল সেলের তিন সদস্য— সুস্মিতা সাহা দত্ত, প্রদ্যোৎ সাহা এবং সাগর সাহা নানুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। বিজেপির দাবি, পুলিশ এখনও মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়নি। আইনজীবীদের এই দল স্থানীয় থানায় গিয়ে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করার এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফেরানোর দাবি জানাবে।
উত্তপ্ত নানুর: তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে বিজেপি শিবিরের দাবি, ভয় দেখিয়ে দলত্যাগ করানোর এই সংস্কৃতি বীরভূমে নতুন নয়। রিন্টু পালের নিরাপত্তা এবং এলাকায় বিজেপির কর্মীদের ওপর হওয়া হামলার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে গেরুয়া শিবির।





