“বিজেপির ফাঁদে পা দেবেন না!”-রাষ্ট্রপতির সফরের মাঝেই বেনজির সংঘাতে মমতা-মোদী

শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজ্য রাজনীতি। প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং অব্যবস্থার অভিযোগে একদিকে যখন রাষ্ট্রপতি স্বয়ং আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, ঠিক তখনই কলকাতার ধরনা মঞ্চ থেকে পালটা তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ দাবি, জেলা প্রশাসনের তরফে কোনও ত্রুটি হয়নি, বরং নির্বাচনের আগে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে কাজে লাগিয়ে ‘নোংরা রাজনীতি’ করছে বিজেপি।

মুখ্যমন্ত্রীর পালটা চ্যালেঞ্জ: “বিজেপির অ্যাজেন্ডা ফেরি করবেন না”

শনিবার শিলিগুড়ির অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর কোনও প্রতিনিধি তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন না। এর জবাবে ধরনা মঞ্চ থেকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করি। কিন্তু আপনাকে বিজেপির অ্যাজেন্ডা ফেরি করার জন্য বাংলায় পাঠানো হয়েছে। আপনি দয়া করে বিজেপির ফাঁদে পা দেবেন না।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ৫ মার্চ জেলা প্রশাসন ও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের মধ্যে সমন্বয় হয়েছিল। আয়োজকরা একটি বেসরকারি সংস্থা (ইন্টারন্যাশনাল সান্তাল কাউন্সিল) হওয়ায় প্রস্তুতির খামতি নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে শিলিগুড়ির মেয়র, জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনার তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।

আসরে নামলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

এই বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত সীমা অতিক্রম করে ফেলেছেন। সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অত্যন্ত বেপরোয়া। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে, তাঁকে সম্মান করা সকলের কর্তব্য।”

মমতার তির্যক প্রশ্ন: “মণিপুর নিয়ে কেন নীরব?”

সোশ্যাল মিডিয়ায় (ফেসবুক ও এক্স) এক দীর্ঘ পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন:

  • বিজেপি শাসিত রাজ্যে যখন আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার হয়, তখন কেন রাষ্ট্রপতি চুপ থাকেন?

  • মণিপুর নিয়ে কেন কোনও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি?

  • ভোটার তালিকায় ‘কারচুপি’র বিরুদ্ধে সরব হতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আদিবাসী ভাবাবেগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির এই সংঘাত এক নতুন মাত্রা যোগ করল। শিলিগুড়ির এই প্রশাসনিক বিতর্ক এখন দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দেও সমানভাবে চর্চিত হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy