“বিজেপির গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত!”-ময়নাগুড়ির শাহ-বাহিনীকে বেনজির আক্রমণ মমতার

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকেই প্রচার অভিযান শুরু করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ময়নাগুড়ির টাউন ক্লাব মাঠে ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে আয়োজিত প্রথম জনসভা থেকেই সুর চড়ালেন তিনি। এদিন তাঁর নিশানায় ছিল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন। পেট্রলের দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাসের নয়া নিয়ম—একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে তুলোধনা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কড়া বার্তা
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, “কখনও শুনেছেন কমিশনের চিঠিতে বিজেপির চিহ্ন থাকে? লজ্জা করে না? সেন্ট্রাল ফোর্স বিজেপির পতাকা নিয়ে ঘুরছে। বিজেপির তো গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত।” কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের কাজ সম্মানের সঙ্গে করুন। মনে রাখবেন, দিল্লির ক্ষমতা পাল্টে যাবে। যদি বিজেপির পোলিং এজেন্ট হয়ে কাজ করেন, তবে আমাদের মা-বোনেরা দেখে নেবেন।”

গ্যাস ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মোদীকে চ্যালেঞ্জ
রান্নার গ্যাসের বুকিংয়ের সময়সীমা ৩৫ দিন করা নিয়ে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন নেত্রী। তিনি বলেন, “গ্যাস বেলুনের গ্যাস বেরিয়ে গিয়েছে। নোটবন্দি, আধার কার্ড—সব কিছুতেই মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্থা করছে বিজেপি। মানুষ আর খেতে পাবে না।” অন্যদিকে বাংলার মা-বোনেদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৬০ বছরের পরেও চলবে। বিজেপি তো আমাদের প্রকল্পের ঠিকমতো টুকলিও করতে পারেনি।”

‘বিজেপি মানেই ভ্যানিশ পার্টি’
বিজেপিকে ‘অ্যান্টি বেঙ্গল’ বা বাংলা বিরোধী আখ্যা দিয়ে মমতা হুঁশিয়ারি দেন, “বিজেপি আসলে ভ্যানিশ পার্টি। ওরা ভয় দেখাচ্ছে গাছে বেঁধে পেটাবে। ভোটের পর পোস্টার দিয়ে বলতে হবে ‘আমি বিজেপি করি না’। ৪ তারিখে যখন গণনা হবে, তখন ১-২-৩-৪ কষে বিজেপির হার নিশ্চিত হবে।” আলচাষিদের শস্যবিমা এবং স্বাস্থ্যসাথী নিয়েও এদিন একাধিক বড় ঘোষণা করেন তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy