বিজয় কি গ্রেফতার হবেন? পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন স্ট্যালিন, তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের উপর নজর

অভিনেতা বিজয়-এর রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্রি কাযাগম (TVK)-এর জনসভায় পদপিষ্ট হয়ে ৩৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তিনি প্রথমেই স্পষ্ট করে দেন যে, এই বিষয়ে তিনি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করবেন না, তবে দলের অব্যবস্থা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করতে ছাড়েননি।
বিজয়-এর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কতা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাই না। কমিশনের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই যেকোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” মূলত TVK দলের প্রধান অভিনেতা বিজয়ের সম্ভাব্য গ্রেফতারি নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী টিভিকে দলের নাম সরাসরি না নিয়েই বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের আয়োজিত অনুষ্ঠানের অব্যবস্থার কারণে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এমন ঘটনা আর কোথাও হওয়া উচিত নয়।” তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য ঘোষিত আর্থিক সাহায্যের কথাও পুনর্বার উল্লেখ করেন।
কেন ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা?
তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং এর দায়িত্বে আছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অরুণা জগদীশান। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, অব্যবস্থা ও অতিরিক্ত ভিড়ই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ:
অতিরিক্ত ভিড়: সভার জন্য প্রাথমিক ভাবে ৩০ হাজার মানুষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ হাজির হন।
৬ ঘণ্টা দেরি: বিজয়ের সভায় প্রায় ছ’ঘণ্টা দেরি হয়। বিকেল থেকে অপেক্ষমাণ ভিড় সন্ধ্যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
হুড়োহুড়ি: সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ বিজয় বক্তৃতা শুরু করতেই মঞ্চের দিকে একসঙ্গে ছুটতে থাকেন হাজারো সমর্থক, যার ফলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং অনেকে পদপিষ্ট হন।
এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একাধিক শিশু রয়েছে। অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতোমধ্যে স্ট্যালিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন।