বিজয়ের ছেড়ে দেওয়া আসনেই কি প্রার্থী স্ট্যালিন? তামিল রাজনীতিতে এবার ‘মহা-উপনির্বাচন’!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘বিজয় ঝড়ে’ কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে ডিএমকে (DMK)-র দীর্ঘদিনের সাজানো বাগান। হার স্বীকার করতে হয়েছে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনকেও। নিজের গড় কোলাথুরেও হারের মুখ দেখেছেন তিনি। তবে দমে যেতে রাজি নন পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক। এবার বিধানসভায় সসম্মানে ফিরতে এবং দলের অন্দরে আত্মবিশ্বাস জোগাতে উপনির্বাচনের ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আর তার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ছেড়ে দেওয়া তিরুচি পূর্ব (Tiruchi East) আসনটি।

বিজয়ের দুর্গে স্ট্যালিনের হানা?
এবারের নির্বাচনে অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয় দুটি কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন এবং দুটিতেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। নিয়ম মেনে একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হয়েছে। ঠিক যেমনটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল। বিজয় তিরুচি পূর্ব আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন এখন সময়ের অপেক্ষা। শুক্রবার ডিএমকের তিরুচি সাউথ জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী আনবিল মহেশ পোয়মোঝি প্রস্তাব দেন যে, দলীয় সভাপতি এমকে স্ট্যালিন যেন এই আসন থেকে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

কেন তিরুচি পূর্ব কেন্দ্রই লক্ষ্য?
তিরুচি পূর্ব আসনে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে ৯১ হাজারের বেশি ভোট সংগ্রহ করেছিলেন। ডিএমকে প্রার্থীকে প্রায় ২৭ হাজার ভোটে পরাজিত করেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের ছেড়ে যাওয়া এই শক্তিশালী আসন থেকে লড়া স্ট্যালিনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কোলাথুরে টিভিকের প্রার্থী ভি এস বাবুর কাছে হেরে বর্তমানে স্ট্যালিন বিধানসভার সদস্য নন। তাই এই আসন থেকে জয়ী হলে তিনি যেমন বিধানসভায় ফিরতে পারবেন, তেমনই বিজয়ের খাসতালুকে জয় ছিনিয়ে নিতে পারলে ডিএমকে-র কর্মী-সমর্থকদের মনোবল এক ধাক্কায় অনেকখানি বেড়ে যাবে।

মর্যাদার লড়াইয়ে ডিএমকে বনাম টিভিকে
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ১০৭টি আসন জিতে ক্ষমতায় এসেছে বিজয়ের দল টিভিকে (TVK)। অন্যদিকে, ডিএমকে আটকে গিয়েছে মাত্র ৫৯টি আসনে। হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে স্ট্যালিন এখন ‘DMK 2.0’ বা দল পুনর্গঠনের ডাক দিয়েছেন। তিরুচি পূর্বের উপনির্বাচন শুধুমাত্র একটি আসনের লড়াই নয়, এটি দুই রাজনৈতিক শিবিরের মর্যাদার লড়াই। স্ট্যালিন নিজে এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নয়া সমীকরণ তৈরি হবে। যদিও দলীয় স্তরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা হয়নি, তবে জেলা কমিটির এই প্রস্তাবকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy