বিচারপতি নিয়োগে সরকার হস্তক্ষেপ করলে কী হবে? প্রশ্ন উঠতেই ‘সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি’ বেছে নেওয়ার পক্ষে কলেজিয়ামই সেরা—জানালেন বিদায়ী CJI!

হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিতর্কিত কলেজিয়াম ব্যবস্থার পক্ষেই জোরালো সওয়াল করলেন শীর্ষ আদালতের বিদায়ী প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই। সোমবার দেশের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি সূর্য কান্ত দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি স্পষ্ট জানান, কলেজিয়ামই আইন ব্যবস্থার জন্য বেশি কার্যকর।

কেন কলেজিয়ামই কার্যকর?
প্রধান বিচারপতি গাভাই মনে করেন, কোনও ব্যবস্থাই সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত হতে পারে না, কিন্তু বিচারপতি নিয়োগের দায়িত্ব প্রশাসনের হাতে না দিয়ে বিচার বিভাগের হাতে রাখাই শ্রেয়। এর সপক্ষে তাঁর প্রধান যুক্তিটি হলো:

“আইনজীবীরা প্রধানমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রীর সামনে সওয়াল করেন না, বিচারপতিদের সামনে করেন। তাই আইনজীবীদের মূল্যায়ন বিচারপতিরাই ভালো করতে পারবেন।”

তিনি জানান, কোনো আইনজীবীকে বিচারপতি করার ক্ষেত্রে সেই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং কলেজিয়াম আগে তাঁকে আদালতে কাজ করতে দেখেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে তাঁদের সম্যক ধারণা আছে। এই সুপারিশ ছাড়া আইনজীবী বিচারপতি হতে পারেন না।

অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত এবং নিয়োগের পরিসংখ্যান
কলেজিয়াম ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কথা বলার সময় প্রধান বিচারপতি গাভাই সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। গত অগস্ট মাসে বিচারপতি বিপুল এম পাঁচোলিকে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানোর সুপারিশে কলেজিয়ামের অন্য ৪ জন বিচারপতি একমত হলেও, বিচারপতি বিভি নাগারত্ন লিখিতভাবে ভিন্ন মত পোষণ করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে গাভাই বলেন, “যে আপত্তি তোলা হয়েছে তা যদি যথার্থ হত, তাহলে বাকি চার বিচারপতি একমত হতেন না।” তিনি আরও জানান, কলেজিয়ামের মধ্যে কোনো বিচারপতির বাকিদের থেকে ভিন্ন মত পোষণ করা নতুন কিছু নয়, এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে।

বিদায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর মেয়াদের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন গাভাই। এ বছরের মে মাসে তিনি দায়িত্ব নেন। এই সময়ের মধ্যে কলেজিয়ামের মাধ্যমে ১০৭ জন বিচারপতি নিয়োগ হয়েছেন। এর মধ্যে এলাহাবাদ হাইকোর্টে ২৪ জন, বম্বে হাইকোর্টে ১৪ জন, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে ১২ জন বিচারপতি নিয়োগ হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দু-একটি ক্ষেত্র ছাড়া বাকি ক্ষেত্রে কলেজিয়ামের সুপারিশ কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নিয়েছে।