‘এনআরসি-এর পিছনের দরজা’! ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনে (SIR) কেন সুপ্রিম কোর্টে গেল কংগ্রেস? বিজেপির পাল্টা অভিযোগ কী?

ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে ফের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিল নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। ২০০৩ সালের পর থেকে বন্ধ থাকা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ইসিআই সাম্প্রতিককালে আবার শুরু করতেই তাতে তীব্র বিরোধিতা করছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি)। কিন্তু কেন এই বিরোধিতা?
ইসিআই-এর অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুসারে, ২০০৩ সালে তৎকালীন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা কমিশনকে হুমকি দিয়েছিলেন, যাতে এই প্রক্রিয়া চালানো না যায়। সেই সময় ইউপিএ সরকারের আমলে কমিশনকে বলা হয়েছিল, এমন সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। ফলে, ২০০৪ সাল থেকে শুধু রুটিন সংশোধন চললেও, কোনো বড় আকারের শুদ্ধিকরণ হয়নি।
আতঙ্কের কারণ কী?
এসআইআর প্রক্রিয়াটি মূলত ভোটার তালিকাকে স্বচ্ছ করার জন্য। ইসিআই-এর তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে বড় সংশোধন না হওয়ায় শহরায়ণ, অভিবাসন ও নতুন ভোটার যোগের কারণে তালিকায় লক্ষ লক্ষ মৃত, ডুপ্লিকেট, স্থানান্তরিত ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীর নাম ঢুকে গেছে।
যেমন বিহারে ২০০৩-এর পর ৪.৯ কোটি ভোটার যুক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেরই নাগরিকত্বের প্রমাণ নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। এসআইআর-এ বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) ঘরে ঘরে গিয়ে ফর্ম বিতরণ করছেন এবং ২০০৩-এর পর যুক্ত হওয়া ভোটারদের জন্মতারিখ, জন্মস্থান ও পিতৃ-মাতৃর নামের প্রমাণ দিতে হবে।
‘এনআরসি-এর পিছনের দরজা’—কংগ্রেসের অভিযোগ
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই বিহারে ড্রাফট তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা যায়। এই বিষয়টিকেই অস্ত্র করেছে কংগ্রেস।
তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া লক্ষ লক্ষ নিরীহ ভোটারকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু, অতি পশ্চাদপদ শ্রেণি এবং অভিবাসীদের। এআইসিসি-র জেনারেল সেক্রেটারি জয়রাম রমেশ বলেছেন, “ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি এনআরসি-এর পিছনের দরজা।” কংগ্রেসের ‘ইগল’ (EAGLE) গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়াকে “ঔষধের চেয়ে রোগ বেশি” বলে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য আধার, ভোটার আইডি এবং রেশন কার্ডকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে মেনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসিআই-কে।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ: ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে’
অন্যদিকে, বিজেপি এই বিরোধিতাকে সামনে এনে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছে। বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়াল্লা বলেন, কংগ্রেসের এই বিরোধিতা প্রমাণ করে যে তারা অযোগ্য ভোটারদের—যারা মৃত, ডুপ্লিকেট বা অনুপ্রবেশকারী—সুরক্ষা দিতে চায়, কারণ তারাই তাদের ভোটব্যাঙ্ক।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কংগ্রেসের আপোষ জাতীয় নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক জীবনের জন্য ঝুঁকিতে ফেলছে। তারা হেরে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছে।”
এই বিতর্ক এখন দেশের নির্বাচন পদ্ধতি এবং রাজনৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।